দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাসুলী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে এলাকায় সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা তাঁর লাউ ইতোমধ্যে বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এ উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, দিনাজপুর অঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জৈব ও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাসুলী গ্রামে ২০ শতক জমিতে জৈব সবজি উৎপাদনের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। ওই প্রদর্শনীতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান কৃষক আমিনুল ইসলাম।আমিনুল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ শতক জমিতে জৈব প্রদর্শনী কার্যক্রম চলছে। লাউ চাষে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এতে বীজ, মাচা তৈরি, জৈব সার, শ্রমিক ও পরিচর্যার খরচ অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পেয়েছি। জমিতে আরও লাউ আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ২ু৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করি। স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সুপার গ্রিন জাতের লাউ সাধারণ লাউয়ের তুলনায় আকারে বড় ও ওজনে ভারী হওয়ায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। পাইকারদের অনেকেই ক্ষেত থেকেই লাউ কিনে নিচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ কমছে এবং কৃষকরাও পাচ্ছেন ন্যায্য মূল্য।আরও পড়ুন, জনগণই জবাব দেবে ব্যালটে’ মিরপুরে বিএনপি প্রার্থীর হুঁশিয়ারি: আমিনুল হকস্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, আমিনুলের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে তারা আগামী মৌসুমে সুপার গ্রিন জাতসহ বিভিন্ন সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের ভাষায়, “অল্প খরচে ভালো লাভ হওয়ায় লাউ চাষ এখন লাভজনক হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “সুপার গ্রিন একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। রোগবালাই কম হয়, ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। সঠিক চাষ ও নিয়মিত পরিচর্যায় অল্প জমিতেও কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি শেখানো হচ্ছে। জৈব সবজি উৎপাদন প্রদর্শনী কৃষকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমিনুল ইসলামের মতো সফল উদ্যোগ শুধু কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবানই করবে না, বরং সুস্থ ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষিতে জৈব চর্চা বাড়ার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে ।