নিত্যপণ্যের চাপে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশ
দেশে টানা দ্বিতীয় মাস মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। সদ্যঃসমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরের ৮.২৯ শতাংশের তুলনায় ০.২০ শতাংশ বেশি। এই চিত্র উঠে এসেছে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে।ডিসেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.৭১ শতাংশ, যা নভেম্বরের ৭.৩৬ শতাংশের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী।টানা তিন মাস ধরে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। শীতকালে খাদ্য সরবরাহ প্রচুর থাকা সত্ত্বেও বাজারে দাম কমেনি। খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.১৩ শতাংশ হয়েছে, যা নভেম্বরের ৯.০৮ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। যদিও বছরভিত্তিক হিসাব করলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে; গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এ হার ছিল ৯.২৬ শতাংশ।গ্রাম এবং শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশ, যা নভেম্বরের ৮.২৬ শতাংশের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো পড়ুন , এডিবি ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে ২.৫৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিশহরে এই হার ৮.৩৯ শতাংশ থেকে ৮.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ কিছুটা বেশি।মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনে কার্যত এক ধরনের অদৃশ্য করের মতো প্রভাব ফেলে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে যে পণ্য ও সেবা কিনতে ১০০ টাকা খরচ হতো, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সেই একই পণ্য কিনতে খরচ হয়েছে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় ব্যয় বেড়েছে আট টাকা ৪৯ পয়সা। কোনো পরিবারের এক বছর আগে মাসিক খরচ যদি এক লাখ টাকা হতো, তাহলে এখন গড়ে প্রায় আট হাজার ৪৯০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে সীমিত আয়ের ও গরিব মানুষের ওপর। ডিসেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৭ শতাংশ, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতির ৮.৪৯ শতাংশের তুলনায় কম। ফলে মানুষের আয় যতটা বাড়ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরো তীব্র হচ্ছে।