দেশের ক্ষয়প্রাপ্ত চাষযোগ্য জমি রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে সোমবার ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু সংসদে বিলটি উপস্থাপন করেন।বিলটি অযৌক্তিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের কারণে চাষযোগ্য জমির ক্ষয় রোধে কার্যকর হবে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, তামাক চাষ, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করে, তিন বা ততোধিক ফসলের জমিতে নিষিদ্ধ করা হবে এবং এক ও দুই ফসলের জমিতে ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে।আরও পড়ুন, খলিলুর রহমান দিল্লি যাচ্ছেন: জয়শঙ্কর, অজিত দোভাল ও হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠকদেশের সব জমি (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ছাড়া) একটি জাতীয় জোন ভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র ও মাঠ যাচাইয়ের মাধ্যমে জমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। ফসলি জমি, বিশেষ চাষযোগ্য অঞ্চল ও উচ্চফসলি জমি মূলত কৃষি কাজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া এগুলোতে অ-কৃষি কাজ করা যাবে না। মোট চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অ-কৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে।আরও পড়ুন, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাসপরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য মাটি অপসারণ, জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস নিষিদ্ধ থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা যাবে। বিল পাস হলে বাংলাদেশে আরও কাঠামোবদ্ধ ও বিজ্ঞানভিত্তিক জমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হবে, যা উন্নয়ন, পরিবেশ ও কৃষি সংরক্ষণকে সামঞ্জস্য করবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।