একসময় ঘরোয়া আয়োজনের স্বাভাবিক খাবার ছিল পোলাও। কিন্তু সেই পোলাও রান্নার চাল কিনতেই এখন কেজিতে গুনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্যাকেটজাত পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। আর খোলা চালের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ এক মাস আগেও কোনো কোনো প্যাকেটজাত চালের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওর চাল পাওয়া যেত প্রায় ১১০ টাকায়।পাইকারি বাজারেও বেড়েছে দাম। ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের ৫০ কেজির বস্তা এক মাস আগে ৭ হাজার ৫০০ টাকা হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ টাকায়।হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। আড়ও পড়ুন,সবজিতে স্বস্তি, তেল-মাছ-মাংসে বাড়তি চাপবাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার পর দেশীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।চলতি অর্থবছরে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৯৫৯ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানির অনুমোদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।তবে রপ্তানিকারকদের দাবি, বাজারের সংকটের জন্য রপ্তানিকে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁদের হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ফলে কয়েক লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে।অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ ধান কিনে মজুত করেছে। পরে ধানের দাম বাড়ার কথা বলে চালের দামও বাড়ানো হয়েছে।ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামানও মনে করেন, শুধু রপ্তানির কারণে এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। তাঁর অভিযোগ, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে রপ্তানিকে ব্যবহার করছেন।ফলে পোলাওর চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আসলে রপ্তানি, মজুতদারি নাকি কৃত্রিম সংকট—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।