১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসনের সমর্থন ছিল ব্যাপক সমালোচনার বিষয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে বার্তা পাঠালেও তাঁদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করা হয়। পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর উদ্যোগও নেয় নিক্সন প্রশাসন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকার কারণে দেশটির তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ মন্তব্যও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আলোচিত। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র তিন বছর পর সেই হেনরি কিসিঞ্জারই সফরে আসেন ঢাকায়। আরও পড়ুন,অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই, ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট ইসি ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন তিনি। এটি ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির প্রথম সফর। প্রায় ২০ ঘণ্টার এই সফরে কিসিঞ্জার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অবস্থান এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার মধ্যে কিসিঞ্জারের এই সফর ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা—দুই বাস্তবতার মধ্যেই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাসের এই অধ্যায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হয়েছিল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।