টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অবশেষে স্বস্তির রোদ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকায় হাওরজুড়ে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ডুবে যাওয়া জমির ধান রক্ষা ও খলায় তোলা ফসল শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ইটনা ও মিঠামইনসহ বিভিন্ন হাওর এলাকার অলওয়েদার সড়ক ও উঁচু খলাগুলোতে এখন ধান শুকানো, মাড়াই ও পরিষ্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও এ কাজে অংশ নিচ্ছে, ফলে সর্বত্র দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততা।আরও পড়ুন, বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনায় ঝড়ের কবলে নৌকাডুবি, দুই জেলে নিখোঁজতবে এই স্বস্তির মাঝেও উদ্বেগ কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়ায় অনেক নিচু জমি এখনও পানির নিচে রয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষককে পানির মধ্যেই ধান কাটতে হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, কয়েকদিন টানা রোদ থাকলে অন্তত খলায় তোলা ধান রক্ষা করা সম্ভব হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেকের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, যা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।আরও পড়ুন, বান্দরবানে চেকপোস্টে ২১ রোহিঙ্গা আটকজমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে বেড়েছে মজুরিও। শ্রমিকরা কষ্টসাধ্য পরিবেশে, কখনো বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সামান্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি আছে।আরও পড়ুন, ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যকে ছুড়িকাঘাতকৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং প্রায় ৪৯ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। সব মিলিয়ে, রোদে হাওরে কাজের গতি ফিরলেও বাড়তি পানি ও অনিশ্চিত আবহাওয়া কৃষকদের দুশ্চিন্তা এখনো কমাতে পারেনি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।