দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

নিহতদের তালিকায় শুধু আমার নামটি ওঠেনি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জাঈ নামের এক যুবক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদেসেহ। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই সন্তান নেওয়া ও নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ভেঙে গেছে তাঁদের।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামেদ বলেন, হামলার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িটির সামনে গিয়ে স্বজনদের খুঁজে ফেরেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার জীবন এখানেই দাফন হয়ে গেছে।’ হামেদ জানান, তাঁদের পরিবারের বাড়িটি তাঁর দাদা ও বাবার চাচা নির্মাণ করেছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট ভাগ করে দেওয়া হয়। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন তিনি। তাঁদের সামনে তখন নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন। হামেদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৯ মার্চ দুপুরে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে মাথাব্যথার ওষুধ আনার অনুরোধ পান।আরও পড়ুন,এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানে। এরপর আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, বিশাল ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালালেও প্রথম দিকে পরিবারের কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী ২০ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপ, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ছাই সরিয়ে স্বজনদের খুঁজেছেন হামেদ। নিহতদের মধ্যে তাঁর স্ত্রী, বাবা-মা, দাদা-দাদি, চাচা, ফুফা, ফুফাতো বোনসহ পরিবারের আরও সদস্য ছিলেন। হামেদ বলেন, পরিবারের সবার জন্যই তিনি জীবনে পরিশ্রম করেছেন। এখন তাঁদের কেউ নেই। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তাঁর কাছে বেঁচে থাকা আর স্বজনদের হারানোর শোকের মধ্যে যেন কোনো পার্থক্য নেই।

নিহতদের তালিকায় শুধু আমার নামটি ওঠেনি