দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বরফে ঢাকা ছোট চাঁদের বিস্ময়কর শক্তি

দেখতে ছোট। পুরোটা বরফে ঢাকা। কিন্তু প্রভাবের দিক থেকে সে যেন দৈত্যের মতো। শনি গ্রহের ছোট চাঁদ এনসেলাডাসকে নিয়ে এমনই চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এনসেলাডাস মহাকাশে বিশাল তড়িৎচৌম্বক ঢেউ (বিদ্যুৎ ও চৌম্বক শক্তির মিলিত তরঙ্গ) ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ঢেউ ৫ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ ছোট এই চাঁদটি শনির চারপাশের মহাকাশ পরিবেশকে বড়ভাবে প্রভাবিত করছে।গবেষণাটি হয়েছে নাসা, ইউরোপ ও ইতালির মহাকাশ সংস্থার যৌথ মহাকাশযান ক্যাসিনি–র ১৩ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে। ক্যাসিনি বহুবার এনসেলাডাসের পাশ দিয়ে উড়ে গেছে এবং নানা যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরু থেকে নিয়মিত পানি ও ধুলোর ফোয়ারা বের হয়। মহাকাশে গিয়ে এই কণা চার্জযুক্ত হয়ে পড়ে। এরপর সেগুলো শনির চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিশে বিশেষ ধরনের ঢেউ তৈরি করে। এই ঢেউকে বলা হয় ‘আলফভেন উইং’ (চৌম্বক রেখা ধরে ছড়িয়ে পড়া বিশেষ তরঙ্গ)।গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঢেউ শুধু কাছাকাছি নয়, প্রায় ৫ লাখ ৪ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এটি এনসেলাডাসের ব্যাসার্ধের প্রায় দুই হাজার গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা ৩৬ বার এমন ঢেউয়ের চিহ্ন পেয়েছেন। ফ্রান্সের গবেষক লিনা হাদিদ বলেন, এতদিন এনসেলাডাসের প্রভাব পুরোপুরি জানা ছিল না। এই গবেষণা শনিকে ঘিরে তার ভূমিকা নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এনসেলাডাসে যে মহাকাশ অভিযান হবে, সেখানে এই তড়িৎচৌম্বক প্রভাব আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা দরকার। ছোট হলেও এনসেলাডাস প্রমাণ করল—মহাকাশে আকারই সব নয়, প্রভাবটাই বড় কথা।

বরফে ঢাকা ছোট চাঁদের বিস্ময়কর শক্তি