বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও শরিয়াহ পরিপালন জোরদার করতে শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহ বোর্ড যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।আরও পড়ুন, এক সপ্তাহেই সবজির দাম বেড়ে চাপে সাধারণ মানুষবাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ নিয়ে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় গভর্নর স্বীকার করে বলেন, আগে কিছু ইসলামী ব্যাংকে টাকা পাচার হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ে সম্পদ নিয়ে কাজ করা হয় বলে এতে ক্ষতির ঝুঁকি কম। এ সময় দেশের অনেক আলেম, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন।প্রস্তাবগুলো হলো— স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং খাত তদারকির জন্য আলাদা ডেপুটি গভর্নর বড় বিনিয়োগে শরিয়াহ কমিটির একাধিক সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ব্যাংক বোর্ডকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রাখাএছাড়া ব্যাংক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের জন্য ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান নিশ্চিত করা, নিয়মিত বাহ্যিক শরিয়াহ অডিট চালু এবং একটি স্বচ্ছ কমপ্লায়েন্স মূল্যায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। আস্থা ফিরিয়ে আনতে অর্থপাচার ও বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান এবং সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর জন্য সহজ শর্তে তারল্য সহায়তার সুপারিশ করেন বক্তারা।আরও পড়ুন, বাজেটে ভ্যাট-শুল্কে ছাড় নেই, রাজস্ব বাড়াতে কঠোর পথে এনবিআরভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণা কেন্দ্র ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উঠে আসে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়। সমাপনী বক্তব্যে গভর্নর ইসলামী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।