ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে যাত্রীদের জন্য টোল বা শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিয়মকানুনকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরান এই পদক্ষেপটিকে যুদ্ধের বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।আরও পড়ুন, যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ওপর নির্যাতন ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগে মামলাইরান এবং ওমান সম্প্রতি একটি যৌথ প্রটোকল খসড়া চূড়ান্ত করেছে যাতে তারা এই প্রণালীর যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তেহরান স্পষ্ট করেছে যে তারা শত্রু দেশগুলির জন্য এই পথটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি জাহাজের জন্য এই জলপথটি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার হুমকি দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ সঞ্জিত রুহাল বলেছেন যে ইরান বা ওমান এই প্রণালীর সার্বভৌম অংশীদার হলেও তাদের এককভাবে টোল আদায়ের কোনো আইনি অধিকার নেই। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন অনুসারে, আন্তর্জাতিক নেভিগেশনের জন্য ব্যবহৃত এই ধরনের প্রণালীগুলোতে সকল দেশের জাহাজের অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের অধিকার রয়েছে।আরও পড়ুন, ভুলবশত নিজ ভূখণ্ডেই বোমা ফেলল আইডিএফ হেলিকপ্টারইরান এখন দাবি করছে যে যুদ্ধের সময়ে সাধারণ শান্তির নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে না, যা মূলত তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে একটি সাফাই মাত্র। ইরান এই পথে যাত্রীদের জন্য টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন আয়ের উৎস তৈরির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী দর কষাকষির হাতিয়ার তৈরি করতে চাচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত, চীন এবং ইউরোপের দেশগুলো গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কারণ এই দেশগুলো তাদের জ্বালানি আমদানির জন্য পুরোপুরি হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে জর্ডান ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংকট এড়াতে পাইপলাইনের মতো বিকল্প পথের দিকে ঝুঁকছে। তবে রাতারাতি হরমুজ প্রণালীর বিকল্প তৈরি করা অসম্ভব বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।