দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

দেবহাটায় শামীম হত্যা: দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ আদেশ দেন।রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া দুই আসামি হলেন দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের মহাতাবউদ্দিন খানের ছেলে মোক্তার হোসেন খান এবং নাজিরের ঘের গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে আসাদুল ইসলাম মোল্লা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর আসামিদের থানা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৩০ অক্টোবর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশনা রয়েছে। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীম একজন মানসিক রোগী ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। আরও পড়ুন,কলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান প্রভাস মজুমদার, চাইছেন জনসমর্থনমহানবীকে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় শামীমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে এবং একই রাতে সাড়ে ১১টার দিকে সখীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে আবারও মারধর করা হয়। ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসক, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় শামীমের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, আসাদুল মোল্লা ও মোক্তার হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় আসাদুল মোল্লা, মোক্তার হোসেন ও ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফজলুল হক আমিনী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষে অংশ নেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এম শাহ আলম, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিনসহ অন্তত ১০ জন আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন উপপরিদর্শক হায়দার আলী ও অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ। আদালতের রিমান্ড আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, হামলা ও হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। 

দেবহাটায় শামীম হত্যা: দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর