দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে দিনাজপুর ও বরিশালে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ও অবিস্মরণীয় নাম বেগম খালেদা জিয়া। তার সংগ্রামী পথ চলা আর কর্মময় জীবনের ওপর বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উদ্যোগে দিনাজপুর ও বরিশালে দু'দিন ব্যাপি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ৩টায় দিনাজপুর পৌরসভার লোক ভবন চত্বর মাঠ ও বরিশালের ব্লেজ পার্কে এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। যেখানে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় শতাধিক স্থিরচিত্র প্রদর্শন ও তার জীবনের ওপর নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যা আরো দুদিন চলমান থাকবে।দিনাজপুর পৌরসভার লোক ভবন চত্বর মাঠে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল হালিম। এসময় দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান সরকার, সাবেক সাংগঠিক মাহবুব হেলাল, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকার সভাপতি মারুফা রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ ও নাট্য বিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদলসহ স্থানীয় বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বরিশাল ব্লেজ পার্কে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। এসময় স্বাধীনতা ফোরাম বরিশালের আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমিন ও সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকার অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ ও দপ্তর সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকার সভাপতি মারুফা রহমান বলেন, আমরা সব প্রজন্মের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে তুলে ধরতে চাই। তাই দেশব্যাপী এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এখানে একেকটা ছবি একেকটা মেসেজ। এই ছবিগুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার সেই সময়ের ঘটনা কি ছিল, আমরা তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সব বয়সের মানুষ এখানে আসছেন। তারা ছবি দেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন যে, সেই সময় কি ঘটেছিল। তরুণ প্রজন্ম যারা আসছেন তারা অন্যদের কাছে জানার চেষ্টা করছেন। তবে তরুণদের মধ্যে বেগম জিয়া সম্পর্কে জানার আগ্রহটা আমরা বেশি দেখছি।সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন ওদের হাতে আছে গোলামীর জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা। একনায়কতন্ত্র,স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রশ্নে তিনি ‘আপসহীন’ নেত্রীর উপাধি পেয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন ব্যক্তি নন। নিজ কর্মগুণে তিনি নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। আমরা এই কয়েকটা ছবি দিয়ে তার জীবনের এত বড় ইতিহাস তুলে ধরতে পারবো না। তিনি আরও বলেন, প্রথমে জিয়া উদ্যানে আমরা এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলাম।পরবর্তীতে গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে আয়োজন করা হয়। আমরা দেখেছি মানুষ বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়, বিশেষ করে তরুণরা। তরুণদের আগ্রহের জায়গা থেকেই দেশব্যাপী এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।আরও পড়ুন, আওয়ামী লীগ নিজের কবর নিজেই রচনা করেছে: সালাহউদ্দিনপ্রদর্শনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় শতাধিক স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও তার জীবনের উপর নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে খালেদা জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ছবি দেখে উদ্বুদ্ধ হন বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা। প্রদর্শনীটি রবিবার ও সোমবার দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।ধাপে ধাপে দেশের ১২ টি জেলায় বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী ও কর্মময় জীবন নিয়ে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন চলমান থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। জেলা গুলো হলো: খুলনা, দিনাজপুর, রংপুর, বরিশাল, বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ফেনী ও কক্সবাজার। অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় শতাধিক স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়াও তার জীবনের উপর নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।

খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে দিনাজপুর ও বরিশালে আলোকচিত্র প্রদর্শনী