আমি যদি ওই লিফটে উঠতাম, আজ কথা বলতে পারতাম না
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ঘটনা। আর সেই ঘটনাই হয়তো বদলে দিয়েছিল একজন মানুষের পুরো জীবন।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৮৭ তলায় যাওয়ার কথা ছিল এড ফাইনের। একটি লিফটে করে তিনি উঠেছিলেন ৭৯ তলা পর্যন্ত। এরপর আরেকটি লিফটে করে যাওয়ার কথা ছিল ওপরে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের জন্য সেই লিফটটি ধরতে পারেননি তিনি।আর এই লিফট মিস করাই শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে দেয় তাঁর প্রাণ।ঘটনাটি ২৫ বছর আগের—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার।হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসা এড ফাইনের একটি ছবি প্রকাশ করেছিল ফরচুন সাময়িকী। ছবিতে দেখা যায়, হাতে ব্রিফকেস নিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে আসছেন তিনি। তাঁর স্যুটজুড়ে লেগে ছিল ধুলা। সেই ছবি রাতারাতি তাঁকে পরিচিত করে তোলে।এখন এড ফাইনের বয়স ৮৩ বছর। ২৫ বছর পরও তিনি সেদিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন। হামলার দিন পরা সেই স্যুট এবং ব্রিফকেস এখনো সংরক্ষণ করে রেখেছেন তিনি। এমনকি ব্রিফকেসটি এখনো ব্যবহার করেন।কেন এত বছর ধরে এগুলো রেখে দিয়েছেন—জানাতে গিয়ে ফাইনের বক্তব্য, যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের জন্য এটি একটি বার্তা। আর সেই বার্তা হলো—তারা কখনো জিততে পারবে না।আড়ও পড়ুন,মোখা দখলে হুতিরা, বাব আল-মান্দেবে বাড়ল ঝুঁকিহামলার দিন সকালে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং-সংক্রান্ত একটি কাজে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে গিয়েছিলেন ফাইন। তাঁর ছেলের সেখানে যাওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকেই যেতে হয়।সকাল পৌনে আটটার দিকে ভবনে পৌঁছে ৭৯ তলায় ওঠেন তিনি। এরপর ওপরে যাওয়ার জন্য দৌড়ে আরেকটি লিফটে উঠতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের জন্য সেটি মিস করেন।এর কিছুক্ষণ পরই ভবনের ৯৩ থেকে ৯৯ তলার মাঝামাঝি অংশে আঘাত হানে ছিনতাই করা বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ।সেদিনের হামলায় মোট ২ হাজার ৯৯৬ জন নিহত হন। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পাশাপাশি পেন্টাগনেও হামলা চালানো হয়।এড ফাইনের স্ত্রী ইনগ্রিডও সেদিন কয়েক ঘণ্টা তাঁর কোনো খোঁজ পাননি। তিনি জানতেন না, তাঁর স্বামী বেঁচে আছেন কি না।২৫ বছর পরও সেই দিনের কথা মনে করে ফাইন বলেন, ‘আমি যদি ওই লিফটে উঠতাম, তাহলে আজ এই কথোপকথন করতে পারতাম না।’