বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, বাড়িভাড়ার চাপ সব মিলিয়ে দিশেহারা গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও মিলছে না সংসার চালানোর নিশ্চয়তা। মাস শেষে বেতন হাতে পাওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে উপার্জনের বড় অংশ। খাবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে দিশেহারা শ্রমিক পরিবারগুলো। এমন পরিস্থিতিতে আর কত দিন স্বল্প বেতনে চলবে সংসার? জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও বেতন সেই তুলনায় না বাড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শ্রমিকেরা। এই বাস্তবতা থেকেই ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। শ্রমিকদের দাবি, শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে হলে প্রয়োজন ন্যায্য মজুরি।আরও পড়ুন,কুষ্টিয়ায় লংমার্চের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা অথচ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। একদিকে বাড়িভাড়া, অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ—সব মিলিয়ে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের জীবন হয়ে উঠেছে কঠিন। প্রশ্ন উঠছে যাঁদের শ্রমে সচল থাকে দেশের পোশাকশিল্প, যাঁদের ঘামে সমৃদ্ধ হয় রপ্তানি খাত, সেই শ্রমিকেরাই কেন নিজের পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাবেন? শ্রমিকেরা উৎপাদন করবেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন, অথচ নিজেদের সংসারের হিসাব মেলাতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতির সমাধান কোথায়? শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তাঁদের এই দাবি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে এখন সবার নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি কি পূরণ হবে, নাকি বাড়তি ব্যয়ের চাপে এভাবেই চলতে থাকবে তাঁদের জীবনসংগ্রাম? এর জবাব চান আন্দোলনরত শ্রমিকেরা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।