রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দৃশ্যমান কাজের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাবের অসংগতি রয়েছে। এ নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে উন্নয়ন খাতের অর্থ ব্যয়ের হিসাব চান। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তাঁদের সন্তোষজনক হিসাব দিতে পারেননি। এর পরদিন, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন,তালায় ক্ষিতিশ হত্যা: চার দিনেও গ্রেপ্তার নেই, পরিবারকে হুমকি
তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষককে ২০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুজন শিক্ষক কর্মরত থাকায় একজন দীর্ঘ ছুটিতে থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “গত পাঁচ অর্থবছরের কিছু কাজ বাকি ছিল। পূর্বের ব্যয়ের হিসাব নিষ্পত্তি করে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচটি কাজ সম্পন্ন করার রেজুলেশন করা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই কাজগুলোর জন্য আমার কাছে কেউ টাকা পাবে না। কাজ করার জন্য লোক নিয়ে এলে তাঁরা ফিরে যান এবং কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ করতে দেন। পরবর্তী সময়ে কাজের জন্য টাকা উত্তোলন করলে অভিযোগকারীরা আমার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” মোকলেছুর রহমান দাবি করেন, বাকি কাজ সম্পন্ন করার পর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে রেজুলেশনের মাধ্যমে তা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাজির ইসলাম বলেন, “আমি কাজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। গত ছয় বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। সেসব খরচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাঁর প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন,জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়,এটি একটি সমিতি: এমপি খোকন তালুকদার
”তিনি আরও বলেন, “অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কী কী কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা করে রেজুলেশন করা হয়। সেই অনুযায়ী পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।”গঙ্গাচড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ বলেন, “২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ ছয় বছর ধরে ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল। মোকলেছুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে কমিটি গঠন করে সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়। তিনি এককভাবে কোনো কাজ করেননি।”তিনি আরও বলেন, “এখন তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করব।”বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দৃশ্যমান কাজের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাবের অসংগতি রয়েছে। এ নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে উন্নয়ন খাতের অর্থ ব্যয়ের হিসাব চান। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তাঁদের সন্তোষজনক হিসাব দিতে পারেননি। এর পরদিন, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন,তালায় ক্ষিতিশ হত্যা: চার দিনেও গ্রেপ্তার নেই, পরিবারকে হুমকি
তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষককে ২০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুজন শিক্ষক কর্মরত থাকায় একজন দীর্ঘ ছুটিতে থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “গত পাঁচ অর্থবছরের কিছু কাজ বাকি ছিল। পূর্বের ব্যয়ের হিসাব নিষ্পত্তি করে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচটি কাজ সম্পন্ন করার রেজুলেশন করা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই কাজগুলোর জন্য আমার কাছে কেউ টাকা পাবে না। কাজ করার জন্য লোক নিয়ে এলে তাঁরা ফিরে যান এবং কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ করতে দেন। পরবর্তী সময়ে কাজের জন্য টাকা উত্তোলন করলে অভিযোগকারীরা আমার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” মোকলেছুর রহমান দাবি করেন, বাকি কাজ সম্পন্ন করার পর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে রেজুলেশনের মাধ্যমে তা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাজির ইসলাম বলেন, “আমি কাজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। গত ছয় বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। সেসব খরচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাঁর প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন,জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়,এটি একটি সমিতি: এমপি খোকন তালুকদার
”তিনি আরও বলেন, “অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কী কী কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা করে রেজুলেশন করা হয়। সেই অনুযায়ী পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।”গঙ্গাচড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ বলেন, “২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ ছয় বছর ধরে ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল। মোকলেছুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে কমিটি গঠন করে সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়। তিনি এককভাবে কোনো কাজ করেননি।”তিনি আরও বলেন, “এখন তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করব।”বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন