কসবার সালদা-বাখরাবাদ গ্যাস লাইনে ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্টা, ছিদ্র হতেই বিকট শব্দে আতঙ্কব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী বায়েক ইউনিয়নে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লাইনে থাকা অতিরিক্ত চাপের কারণে গ্যাস বের হওয়ার পর চোরাই চক্রের সদস্যরা সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে পালিয়ে যায়।বুধবার রাতে বায়েক ইউনিয়নের ধোপাখলা, সাগরতলা ও নোয়াপাড়া এলাকার নির্জন সড়কের পাশে সালদা-বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১০ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইনে এ ঘটনা ঘটে।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৬০০ পিএসআই চাপের ওই লাইনে ছিদ্র করে দুটি অফটেক বা সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে একটি স্থানে পাইপে ছিদ্র করে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও গ্যাসের তীব্র চাপের কারণে কাজটি শেষ করতে পারেনি চক্রটি। এতে বিকট শব্দে গ্যাস বের হতে থাকায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্যাস লাইনে ছিদ্র করার পর প্রচণ্ড শব্দে গ্যাস বের হতে থাকে। এতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এ ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস লাইনে ছিদ্র করা সম্ভব নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন, গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড: আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট
আরেক বাসিন্দা মো. মমিন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘনবসতি রয়েছে। গ্যাস থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি গ্যাস চুরির চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (অপারেশন) জাহিদুর রেজা জানান, সালদা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী ১০ ইঞ্চি পাইপলাইনটি প্রায় ৬০০ পিএসআই চাপ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ওই লাইনে দুটি জায়গায় ছিদ্র করে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি স্থানে পাইপ ছিদ্র করে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অপরটিতে তা সম্ভব হয়নি।তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর কোম্পানির ভিজিল্যান্স বিভাগকে অবহিত করা হয়। পরে ড্রোনের মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় নজরদারি চালিয়ে একটি চুনের কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি নিম্নচাপের লাইন থেকে গ্যাস ব্যবহার করছিল বলে জানান তিনি।জাহিদুর রেজা আরও জানান, অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বাপেক্স ও বিজিসিএলের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চচাপের লাইনের গ্যাস বন্ধ রাখা হয়েছে। লাইনের ভেতরে থাকা গ্যাস বের করে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি নিয়ম অনুযায়ী মেরামতের কাজ চলছে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ১৯৯৬ সালে সালদা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ থেকে এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে তিনটি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিষয় : বিকট শব্দ গ্যাস চুরি

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কসবার সালদা-বাখরাবাদ গ্যাস লাইনে ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্টা, ছিদ্র হতেই বিকট শব্দে আতঙ্কব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী বায়েক ইউনিয়নে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লাইনে থাকা অতিরিক্ত চাপের কারণে গ্যাস বের হওয়ার পর চোরাই চক্রের সদস্যরা সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে পালিয়ে যায়।বুধবার রাতে বায়েক ইউনিয়নের ধোপাখলা, সাগরতলা ও নোয়াপাড়া এলাকার নির্জন সড়কের পাশে সালদা-বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১০ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইনে এ ঘটনা ঘটে।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৬০০ পিএসআই চাপের ওই লাইনে ছিদ্র করে দুটি অফটেক বা সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে একটি স্থানে পাইপে ছিদ্র করে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও গ্যাসের তীব্র চাপের কারণে কাজটি শেষ করতে পারেনি চক্রটি। এতে বিকট শব্দে গ্যাস বের হতে থাকায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্যাস লাইনে ছিদ্র করার পর প্রচণ্ড শব্দে গ্যাস বের হতে থাকে। এতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এ ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস লাইনে ছিদ্র করা সম্ভব নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন, গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড: আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট
আরেক বাসিন্দা মো. মমিন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘনবসতি রয়েছে। গ্যাস থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি গ্যাস চুরির চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (অপারেশন) জাহিদুর রেজা জানান, সালদা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী ১০ ইঞ্চি পাইপলাইনটি প্রায় ৬০০ পিএসআই চাপ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ওই লাইনে দুটি জায়গায় ছিদ্র করে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি স্থানে পাইপ ছিদ্র করে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অপরটিতে তা সম্ভব হয়নি।তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর কোম্পানির ভিজিল্যান্স বিভাগকে অবহিত করা হয়। পরে ড্রোনের মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় নজরদারি চালিয়ে একটি চুনের কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি নিম্নচাপের লাইন থেকে গ্যাস ব্যবহার করছিল বলে জানান তিনি।জাহিদুর রেজা আরও জানান, অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বাপেক্স ও বিজিসিএলের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চচাপের লাইনের গ্যাস বন্ধ রাখা হয়েছে। লাইনের ভেতরে থাকা গ্যাস বের করে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি নিয়ম অনুযায়ী মেরামতের কাজ চলছে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ১৯৯৬ সালে সালদা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ থেকে এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে তিনটি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন