দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 সহায়তানির্ভরতা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্পায়নের নতুন ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি ও জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এদিন সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো পরিবারগুলোর হাতে নতুন নির্মিত ঘরের চাবিও তুলে দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি আছে, সব বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।”তার বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে বিনিয়োগের সরাসরি সম্পর্ক।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল মানুষের পাশে তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। তবে শুধু ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সেই জায়গায় মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিকে অগ্রাধিকার দিতে চায় সরকার।দেশের ভেতরে নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করার পাশাপাশি তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, দেশের মানুষের বিপুল কর্মশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিটি পরিবার যেমন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে, একইভাবে জাতীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

আরও  পড়ুন, চট্টগ্রাম সফরে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী, হেফাজত আমিরের সঙ্গে বৈঠক

তিনি বলেন, “আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।”দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মমুখী শক্তিতে রূপান্তর করে প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গঠনের অংশীদার করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের পর মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরিয়ে দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে।বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এসব পরিবারের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তরের কর্মসূচি রাখা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা করা নয়; মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সরকারের মৌলিক দায়িত্ব।নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম করে তুলতে সরকারের অন্যতম সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি জানান, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল এবং সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী মূল কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও  পড়ুন, কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে অবশেষে ঢাকায় অবতরণ বিজি-৩০৬

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য সরকারের। বাঁশখালী উপজেলায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারকে এর আওতায় আনার কথা জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরে আরও বিপুলসংখ্যক নারীকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে সংসারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই নারীদের হাতে সরাসরি এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের লবণচাষিদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে লবণের একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চাষিদের উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে সরকার মনে করছে। নির্ধারিত সেই মূল্য খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।বাঁশখালী যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সফরসূচি অনুযায়ী এটিই ছিল তার দিনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।জনসভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা বিশাল সমুদ্র শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, এটি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সম্পদ।প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, যারা দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে চায়, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।তার মতে, আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে শুধু শিল্প নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কিংবা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করার মতো রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশ কি উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে যাবে, নাকি সংঘাত ও বিভ্রান্তির মধ্যে আটকে থাকবে—এই সিদ্ধান্ত এখন দেশের মানুষকেই নিতে হবে।

আরও  পড়ুন, ২৯ বছর পর নতুন মোড়, সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডন হক

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রূপরেখা প্রস্তুত করে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।শিল্পায়ন, নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন রাজনৈতিক বিভাজনে সময় নষ্ট না করে জনগণের জন্য কাজ করার সময়।বিশ্বের এমন অনেক দেশ রয়েছে, যারা বাংলাদেশের পরে স্বাধীনতা অর্জন করেও কঠোর পরিশ্রম, উৎপাদন ও পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর পেছনে তাকানো যাবে না, আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটিই লক্ষ্য জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।”তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সরকারের আগামী দিনের অর্থনৈতিক কৌশলে সামাজিক সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উপকূলকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরস্পরসংযুক্ত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।

বিষয় : বিএনপি সক্ষমতা উৎস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

 সহায়তানির্ভরতা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্পায়নের নতুন ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি ও জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এদিন সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো পরিবারগুলোর হাতে নতুন নির্মিত ঘরের চাবিও তুলে দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি আছে, সব বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।”তার বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে বিনিয়োগের সরাসরি সম্পর্ক।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল মানুষের পাশে তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। তবে শুধু ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সেই জায়গায় মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিকে অগ্রাধিকার দিতে চায় সরকার।দেশের ভেতরে নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করার পাশাপাশি তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, দেশের মানুষের বিপুল কর্মশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিটি পরিবার যেমন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে, একইভাবে জাতীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

আরও  পড়ুন, চট্টগ্রাম সফরে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী, হেফাজত আমিরের সঙ্গে বৈঠক

তিনি বলেন, “আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।”দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মমুখী শক্তিতে রূপান্তর করে প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গঠনের অংশীদার করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের পর মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরিয়ে দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে।বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এসব পরিবারের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তরের কর্মসূচি রাখা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা করা নয়; মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সরকারের মৌলিক দায়িত্ব।নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম করে তুলতে সরকারের অন্যতম সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি জানান, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল এবং সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী মূল কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও  পড়ুন, কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে অবশেষে ঢাকায় অবতরণ বিজি-৩০৬

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য সরকারের। বাঁশখালী উপজেলায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারকে এর আওতায় আনার কথা জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরে আরও বিপুলসংখ্যক নারীকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে সংসারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই নারীদের হাতে সরাসরি এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের লবণচাষিদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে লবণের একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চাষিদের উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে সরকার মনে করছে। নির্ধারিত সেই মূল্য খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।বাঁশখালী যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সফরসূচি অনুযায়ী এটিই ছিল তার দিনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।জনসভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা বিশাল সমুদ্র শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, এটি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সম্পদ।প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, যারা দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে চায়, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।তার মতে, আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে শুধু শিল্প নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কিংবা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করার মতো রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশ কি উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে যাবে, নাকি সংঘাত ও বিভ্রান্তির মধ্যে আটকে থাকবে—এই সিদ্ধান্ত এখন দেশের মানুষকেই নিতে হবে।

আরও  পড়ুন, ২৯ বছর পর নতুন মোড়, সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডন হক

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রূপরেখা প্রস্তুত করে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।শিল্পায়ন, নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন রাজনৈতিক বিভাজনে সময় নষ্ট না করে জনগণের জন্য কাজ করার সময়।বিশ্বের এমন অনেক দেশ রয়েছে, যারা বাংলাদেশের পরে স্বাধীনতা অর্জন করেও কঠোর পরিশ্রম, উৎপাদন ও পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর পেছনে তাকানো যাবে না, আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটিই লক্ষ্য জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।”তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সরকারের আগামী দিনের অর্থনৈতিক কৌশলে সামাজিক সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উপকূলকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরস্পরসংযুক্ত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত