রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনকে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজান উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পুলিশ সুপার জানান, রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকায় স্থাপিত একটি বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দিদার আলম ও আফসার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
আরও পড়ুন, মাদারীপুর সদর থানা এলাকা হতে তিন শীর্ষ মানবপাচারকারী গ্রেফতার করলেন থানা পুলিশ
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজানের জুরুলকুল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাটির নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, দিদার আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলাগুলোর ধরন ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন দিবাগত রাতে নিহতের ভাই এবং বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন, খাগড়াছড়িতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন
মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে হামলায় অংশ নেওয়া অন্তত পাঁচজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে মাসুদ দৌড়ে একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়।সূত্রটির দাবি, গুলিবিদ্ধ হয়ে মাসুদ মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও দুই হামলাকারী পুনরায় ফিরে এসে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের প্রয়াত আবদুল খালেকের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদ। তার রাজনৈতিক অবস্থান, সম্ভাব্য নির্বাচনী অংশগ্রহণ, স্থানীয় আধিপত্যের বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার কোনো বিষয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিষয় : মাসুদ হত্যা মাকসুদুল হক উদ্ধার পিস্তল

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনকে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজান উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পুলিশ সুপার জানান, রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকায় স্থাপিত একটি বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দিদার আলম ও আফসার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
আরও পড়ুন, মাদারীপুর সদর থানা এলাকা হতে তিন শীর্ষ মানবপাচারকারী গ্রেফতার করলেন থানা পুলিশ
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজানের জুরুলকুল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাটির নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, দিদার আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলাগুলোর ধরন ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন দিবাগত রাতে নিহতের ভাই এবং বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন, খাগড়াছড়িতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন
মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে হামলায় অংশ নেওয়া অন্তত পাঁচজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে মাসুদ দৌড়ে একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়।সূত্রটির দাবি, গুলিবিদ্ধ হয়ে মাসুদ মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও দুই হামলাকারী পুনরায় ফিরে এসে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের প্রয়াত আবদুল খালেকের ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদ। তার রাজনৈতিক অবস্থান, সম্ভাব্য নির্বাচনী অংশগ্রহণ, স্থানীয় আধিপত্যের বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার কোনো বিষয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন