অকালবন্যা ও উজানের ঢলে এবার ঈদুল আজহার আগে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। মাঠের ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে, গো-খাদ্যের সংকটে কৃষকরা বাধ্য হয়ে গোয়ালের গরু কম দামে বিক্রি করছেন। ফলে ঈদের আনন্দও অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে হাওরবাসীর কাছে।
আরও পড়ুন, বাবার স্মৃতিচিহ্ন হাতে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর গ্রামের কৃষক মমিনউল্লাহর মতো অনেকেই এখন চরম সংকটে। তিনি সাতটি গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। তার ভাষায়, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিজের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে গরুর খাবার জোগাড় করা অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই বহু যত্নে পালন করা গরু বিক্রি করছেন তিনি। মঙ্গলবার মিঠামইনের হেলিপ্যাড মাঠে বসা অস্থায়ী পশুর হাটে দেখা গেছে, কৃষকেরা তুলনামূলক কম দামে গরু-মহিষ বিক্রি করছেন। অনেকেই বলছেন, দুই মাস আগের পাঁচটি গরুর দামে এখন সাতটি গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। কেউ কেউ এবার গরুর বদলে ছোট খাসি কোরবানির পরিকল্পনা করছেন।
আরও পড়ুন, আল মোস্তফা সুন্নিয়া মডেল মাদ্রাসায় সবক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
হাটসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি নেই। বাজারে দেশি গরুই বেশি, যার বড় অংশ এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের গোয়াল থেকে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের পাইকাররা কম দামে এসব গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কোরবানির হাটে। অন্যদিকে স্থানীয় ক্রেতারা বলছেন, গরুর তুলনায় ছাগল ও ভেড়ার দাম কিছুটা বেশি। কারণ আর্থিক সংকটে এবার অনেক পরিবার গরুর পরিবর্তে ছোট পশু কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন, ঐতিহ্যের ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে মাঠে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু
মিঠামইন পশুহাটের ইজারাদার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাটে প্রায় ৪ হাজার গরু উঠেছে, যার মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৫ শতাধিক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্যোগের কারণে কোরবানির পশুর সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত গো-খাদ্যের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে। হাওরের কৃষকেরা এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখে—কোরবানি দেবেন, নাকি ঋণ শোধ করবেন; সংসার চালাবেন, নাকি গোয়ালের গরু বাঁচাবেন—এমন কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে তারা।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
অকালবন্যা ও উজানের ঢলে এবার ঈদুল আজহার আগে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। মাঠের ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে, গো-খাদ্যের সংকটে কৃষকরা বাধ্য হয়ে গোয়ালের গরু কম দামে বিক্রি করছেন। ফলে ঈদের আনন্দও অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে হাওরবাসীর কাছে।
আরও পড়ুন, বাবার স্মৃতিচিহ্ন হাতে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর গ্রামের কৃষক মমিনউল্লাহর মতো অনেকেই এখন চরম সংকটে। তিনি সাতটি গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। তার ভাষায়, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিজের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে গরুর খাবার জোগাড় করা অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই বহু যত্নে পালন করা গরু বিক্রি করছেন তিনি। মঙ্গলবার মিঠামইনের হেলিপ্যাড মাঠে বসা অস্থায়ী পশুর হাটে দেখা গেছে, কৃষকেরা তুলনামূলক কম দামে গরু-মহিষ বিক্রি করছেন। অনেকেই বলছেন, দুই মাস আগের পাঁচটি গরুর দামে এখন সাতটি গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। কেউ কেউ এবার গরুর বদলে ছোট খাসি কোরবানির পরিকল্পনা করছেন।
আরও পড়ুন, আল মোস্তফা সুন্নিয়া মডেল মাদ্রাসায় সবক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
হাটসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি নেই। বাজারে দেশি গরুই বেশি, যার বড় অংশ এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের গোয়াল থেকে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের পাইকাররা কম দামে এসব গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কোরবানির হাটে। অন্যদিকে স্থানীয় ক্রেতারা বলছেন, গরুর তুলনায় ছাগল ও ভেড়ার দাম কিছুটা বেশি। কারণ আর্থিক সংকটে এবার অনেক পরিবার গরুর পরিবর্তে ছোট পশু কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন, ঐতিহ্যের ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে মাঠে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু
মিঠামইন পশুহাটের ইজারাদার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাটে প্রায় ৪ হাজার গরু উঠেছে, যার মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৫ শতাধিক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্যোগের কারণে কোরবানির পশুর সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত গো-খাদ্যের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে। হাওরের কৃষকেরা এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখে—কোরবানি দেবেন, নাকি ঋণ শোধ করবেন; সংসার চালাবেন, নাকি গোয়ালের গরু বাঁচাবেন—এমন কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে তারা।

আপনার মতামত লিখুন