দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

গঙ্গাচড়ায় জনসেবায় ধীরগতি, ইউএনও’র ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

গঙ্গাচড়ায় জনসেবায় ধীরগতি, ইউএনও’র ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও ইউএনও’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ধীরগতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদে থেকে বহুমুখী দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে জনসেবায়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি, প্রশাসনিক সমন্বয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব ইউএনও’র ওপর ন্যস্ত থাকে।এছাড়া শিক্ষা খাতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, 

আরো পড়ুন , বৃষ্টিতে বিপর্যয়ে হাওড়ে পাকা ধান তলিয়ে কৃষকের চোখে জল

পাবলিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও ইউএনও’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উপজেলা পর্যায়ের কম্পিউটার ল্যাব তদারকি, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং আইসিটি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা রয়েছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের অনেকগুলোই প্রত্যাশিত মাত্রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব, ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি এবং কম্পিউটার ল্যাবগুলোর যথাযথ তদারকির অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।এদিকে জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়েও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেবা সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

আরো পড়ুন , প্রধান শিক্ষকই কোচিং ব্যবসায়ী ! সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার আড়ালে বাণিজ্য!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, “অনেক সময় কাজ সম্পন্ন হলেও কাগজপত্রের অনুমোদন বা চেক প্রাপ্তিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।”অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক এসব কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ের কিছু কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় নির্ধারিত কিছু কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না।এদিকে আজ রংপুর জেলা প্রশাসকের গঙ্গাচড়া উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস পরিদর্শন সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “আপনি আমার সহকারীর সঙ্গে কথা বলেন।” পরে তিনি পুরো বিষয়টি না শুনেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বিষয় : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমালোচনা জনসেবা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


গঙ্গাচড়ায় জনসেবায় ধীরগতি, ইউএনও’র ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ধীরগতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদে থেকে বহুমুখী দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে জনসেবায়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি, প্রশাসনিক সমন্বয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব ইউএনও’র ওপর ন্যস্ত থাকে।এছাড়া শিক্ষা খাতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, 

আরো পড়ুন , বৃষ্টিতে বিপর্যয়ে হাওড়ে পাকা ধান তলিয়ে কৃষকের চোখে জল

পাবলিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও ইউএনও’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উপজেলা পর্যায়ের কম্পিউটার ল্যাব তদারকি, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং আইসিটি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা রয়েছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের অনেকগুলোই প্রত্যাশিত মাত্রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব, ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি এবং কম্পিউটার ল্যাবগুলোর যথাযথ তদারকির অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।এদিকে জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়েও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেবা সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

আরো পড়ুন , প্রধান শিক্ষকই কোচিং ব্যবসায়ী ! সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার আড়ালে বাণিজ্য!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, “অনেক সময় কাজ সম্পন্ন হলেও কাগজপত্রের অনুমোদন বা চেক প্রাপ্তিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।”অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক এসব কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ের কিছু কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় নির্ধারিত কিছু কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না।এদিকে আজ রংপুর জেলা প্রশাসকের গঙ্গাচড়া উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস পরিদর্শন সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “আপনি আমার সহকারীর সঙ্গে কথা বলেন।” পরে তিনি পুরো বিষয়টি না শুনেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত