দেশের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই দূষণের জন্য আলোচনায় থাকলেও এবার ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে দেশের আরও কয়েকটি শহর।পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনের গড় বায়ুমান সূচকে সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে বগুড়া।এই সময়ে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, সাভার, ময়মনসিংহ ও টঙ্গী—অধিকাংশ দিনই ঢাকার চেয়ে বেশি দূষিত ছিল।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বায়ুদূষণের বড় একটি অংশ
আসছে আন্তসীমান্ত উৎস থেকে। ভারত, মিয়ানমারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খড় পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসে ভেসে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের মতে, দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই আন্তসীমান্ত দূষণের কারণে হচ্ছে।অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। যশোর শহরে বায়ুমান সূচক সবচেয়ে কম, যা অপেক্ষাকৃত সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বায়ুমান
পর্যবেক্ষণ সারা দেশে বিস্তৃত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশের অভ্যন্তরে ধুলো ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।দেশজুড়ে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। রাজধানী ঢাকা বহু বছর ধরেই দূষিত শহরের তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শহর নীরবে আরও বেশি দূষিত হয়ে উঠছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের ২ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বগুড়া বর্তমানে দেশের
আরো পড়ুন , “এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, সংসদ” হাসনাতকে স্পিকারের কড়া বার্তা
সবচেয়ে দূষিত শহর। এই সময়ে শহরটির গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১৭৪.৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।এছাড়া চট্টগ্রাম, সাভার, ময়মনসিংহ, টঙ্গী ও রাজশাহী—এসব শহরের বায়ুমান সূচকও ঢাকার তুলনায় বেশি ছিল অধিকাংশ দিন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূষণের পেছনে অন্যতম বড় কারণ আন্তসীমান্ত দূষণ। প্রতিবেশী দেশগুলোতে খড় পোড়ানো, শিল্পকারখানার নির্গমন ও ধূলিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি পড়ছে।গবেষণা বলছে, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়টিতে উত্তর ভারতের
খড় পোড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন এবং দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা ধূলিকণা বাংলাদেশের বায়ুমানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।এদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে দূষণ কম। যশোর শহরে সাত দিনের গড় বায়ুমান সূচক ছিল ৭৮.১৪, যা অন্যান্য শহরের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ায় সার্বিক চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।তাদের মতে, সারা দেশে বায়ুমান
পর্যবেক্ষণ জোরদার, আন্তসীমান্ত দূষণ মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ এবং স্থানীয়ভাবে ধুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সংকটে পরিণত হতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই দূষণের জন্য আলোচনায় থাকলেও এবার ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে দেশের আরও কয়েকটি শহর।পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনের গড় বায়ুমান সূচকে সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে বগুড়া।এই সময়ে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, সাভার, ময়মনসিংহ ও টঙ্গী—অধিকাংশ দিনই ঢাকার চেয়ে বেশি দূষিত ছিল।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বায়ুদূষণের বড় একটি অংশ
আসছে আন্তসীমান্ত উৎস থেকে। ভারত, মিয়ানমারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খড় পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসে ভেসে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের মতে, দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই আন্তসীমান্ত দূষণের কারণে হচ্ছে।অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। যশোর শহরে বায়ুমান সূচক সবচেয়ে কম, যা অপেক্ষাকৃত সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বায়ুমান
পর্যবেক্ষণ সারা দেশে বিস্তৃত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশের অভ্যন্তরে ধুলো ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।দেশজুড়ে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। রাজধানী ঢাকা বহু বছর ধরেই দূষিত শহরের তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শহর নীরবে আরও বেশি দূষিত হয়ে উঠছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের ২ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বগুড়া বর্তমানে দেশের
আরো পড়ুন , “এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, সংসদ” হাসনাতকে স্পিকারের কড়া বার্তা
সবচেয়ে দূষিত শহর। এই সময়ে শহরটির গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১৭৪.৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।এছাড়া চট্টগ্রাম, সাভার, ময়মনসিংহ, টঙ্গী ও রাজশাহী—এসব শহরের বায়ুমান সূচকও ঢাকার তুলনায় বেশি ছিল অধিকাংশ দিন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূষণের পেছনে অন্যতম বড় কারণ আন্তসীমান্ত দূষণ। প্রতিবেশী দেশগুলোতে খড় পোড়ানো, শিল্পকারখানার নির্গমন ও ধূলিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি পড়ছে।গবেষণা বলছে, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়টিতে উত্তর ভারতের
খড় পোড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন এবং দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা ধূলিকণা বাংলাদেশের বায়ুমানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।এদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে দূষণ কম। যশোর শহরে সাত দিনের গড় বায়ুমান সূচক ছিল ৭৮.১৪, যা অন্যান্য শহরের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ায় সার্বিক চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।তাদের মতে, সারা দেশে বায়ুমান
পর্যবেক্ষণ জোরদার, আন্তসীমান্ত দূষণ মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ এবং স্থানীয়ভাবে ধুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সংকটে পরিণত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন