রাজধানীতে এক তরুণীকে ঘিরে উদ্ভূত একটি ঘটনার জেরে সাংবাদিককে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মারধরের অপচেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ আওয়ার নিউজ টিভি”এর চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী সেলিম পাটোয়ারী, তরুণী মিম আক্তার এবং সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে সেলিম পাটোয়ারী মিম আক্তারকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে যাহা ভয়েজ রেকর্ডে স্পষ্ট বার্তা দেয়। তবে উক্ত চ্যানেলে ইসমাইল হোসেন তাকে চাকুরী দিয়েছিলেন এবং মেয়েটি সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি প্রতিবাদ করায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সেলিম পাটোয়ারী। তবে মেয়েটি চাকুরী ও সম্মানের ভয়ে এতদিন মুখ খুতে পারেনি। কিন্তু অনেকেই বলছে সেলিম পাটোয়ারীর অফিসে কোন মেয়ে চাকুরী করতে আসলেই তার খপ্পরে পরে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনালাপের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সেলিম পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ২৪ আওয়ার নিউজ টিভি”র চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে শোনা যায়। একই ভিডিওতে মিম আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে তার কথোপকথনের কিছু অংশ উঠে এসেছে, যা ঘিরে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ভিডিওটি মূলত একটি মোবাইল ফোন কলের স্ক্রিন রেকর্ডিং থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওর এক পর্যায়ে স্ক্রিনে কল চলাকালীন রেকর্ডিং সংক্রান্ত একটি নোটিফিকেশনও দেখা যায়। কথোপকথনের সময় সেলিম পাটোয়ারী বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলছেন বলে শোনা যায় এবং মিম আক্তারও তার সঙ্গে কথোপকথনে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন, সাংবাদিক নকিব মিজানুর রহমানের পিতার দাফন সম্পন্ন
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই বলছেন বিষয়টির প্রকৃত প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। কারণ আংশিক ভিডিও বা কথোপকথনের অংশ বিশেষ প্রকাশ পাওয়ায় অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।এদিকে এই ঘটনার সূত্র ধরে রাজধানীতে সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, মিম আক্তারকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনার বিষয়ে তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে সেলিম পাটোয়ারীর বিরোধ শুরু হয়। ওই তরুণীর সঙ্গে সেলিম পাটোয়ারীর কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট ও তথ্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, মিম আক্তার একসময় সংশ্লিষ্ট অনলাইন চ্যানেলে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় সেলিম পাটোয়ারী তরুণীকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেন বলে মিম আক্তার তাকে জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রতিবাদ করেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সেলিম পাটোয়ারীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন, সাংবাদিকতা কোনো দলের নয়, সত্য ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান : সাংবাদিক মো ইনতাজ হোসেন
অন্যদিকে সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, তাকে ফাঁসাতে রাজধানীতে একটি প্রাইভেটকারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তাকে ঘিরে ধরে মারধরের চেষ্টা করেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুলবাড়িয়া এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় একটি প্রাইভেটকারকে ঘিরে ছিনতাই বা সন্দেহজনক ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, সংবাদকর্মী হিসেবে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে এবং নানা ধরনের প্রশ্ন করতে শুরু করেন। তার দাবি, শুরুতে তিনি পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি আচমকা তাকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেয় এবং সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পুরান ঢাকার একটি খাবারের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানা যায় সেটি পুরান ঢাকার সুপরিচিত নান্না বিরানি হাউজ। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি নিজের নাম জামিল বলে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করা হলেও সাংবাদিকের মতে, পুরো ঘটনাটির পেছনে অন্য উদ্দেশ্য কাজ করছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক সংবাদকর্মীকেও হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়। ওই সংবাদকর্মী একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন, মোরেলগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। তার মতে, পূর্বের কিছু ব্যক্তিগত বিরোধ বা দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে উদ্দেশ্য করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোনো সংবাদকর্মী যদি মাঠে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হয়রানি বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। একজন জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী বলেন, সাংবাদিকরা বিভিন্ন ঘটনার তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠে কাজ করেন। সেখানে তাদের পরিচয় জানার পরও যদি কেউ অযথা হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পুরান ঢাকার ব্যস্ত এলাকাগুলোতে প্রায়ই নানা ধরনের ঘটনা ঘটে এবং কখনো কখনো ভিড় বা উত্তেজনার কারণে ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবে এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এদিকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউকে জোরপূর্বক আটকে রাখা, মারধরের চেষ্টা করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী চাইলে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন। বর্তমানে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে এলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
বিষয় : সাংবাদিক উত্তাপ অপপ্রচার অনলাইন টিভি মিম আক্তার

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
রাজধানীতে এক তরুণীকে ঘিরে উদ্ভূত একটি ঘটনার জেরে সাংবাদিককে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মারধরের অপচেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ আওয়ার নিউজ টিভি”এর চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী সেলিম পাটোয়ারী, তরুণী মিম আক্তার এবং সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে সেলিম পাটোয়ারী মিম আক্তারকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে যাহা ভয়েজ রেকর্ডে স্পষ্ট বার্তা দেয়। তবে উক্ত চ্যানেলে ইসমাইল হোসেন তাকে চাকুরী দিয়েছিলেন এবং মেয়েটি সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি প্রতিবাদ করায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সেলিম পাটোয়ারী। তবে মেয়েটি চাকুরী ও সম্মানের ভয়ে এতদিন মুখ খুতে পারেনি। কিন্তু অনেকেই বলছে সেলিম পাটোয়ারীর অফিসে কোন মেয়ে চাকুরী করতে আসলেই তার খপ্পরে পরে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনালাপের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সেলিম পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ২৪ আওয়ার নিউজ টিভি”র চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে শোনা যায়। একই ভিডিওতে মিম আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে তার কথোপকথনের কিছু অংশ উঠে এসেছে, যা ঘিরে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ভিডিওটি মূলত একটি মোবাইল ফোন কলের স্ক্রিন রেকর্ডিং থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওর এক পর্যায়ে স্ক্রিনে কল চলাকালীন রেকর্ডিং সংক্রান্ত একটি নোটিফিকেশনও দেখা যায়। কথোপকথনের সময় সেলিম পাটোয়ারী বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলছেন বলে শোনা যায় এবং মিম আক্তারও তার সঙ্গে কথোপকথনে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন, সাংবাদিক নকিব মিজানুর রহমানের পিতার দাফন সম্পন্ন
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই বলছেন বিষয়টির প্রকৃত প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। কারণ আংশিক ভিডিও বা কথোপকথনের অংশ বিশেষ প্রকাশ পাওয়ায় অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।এদিকে এই ঘটনার সূত্র ধরে রাজধানীতে সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, মিম আক্তারকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনার বিষয়ে তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে সেলিম পাটোয়ারীর বিরোধ শুরু হয়। ওই তরুণীর সঙ্গে সেলিম পাটোয়ারীর কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট ও তথ্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, মিম আক্তার একসময় সংশ্লিষ্ট অনলাইন চ্যানেলে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় সেলিম পাটোয়ারী তরুণীকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেন বলে মিম আক্তার তাকে জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রতিবাদ করেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সেলিম পাটোয়ারীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন, সাংবাদিকতা কোনো দলের নয়, সত্য ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান : সাংবাদিক মো ইনতাজ হোসেন
অন্যদিকে সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, তাকে ফাঁসাতে রাজধানীতে একটি প্রাইভেটকারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তাকে ঘিরে ধরে মারধরের চেষ্টা করেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুলবাড়িয়া এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় একটি প্রাইভেটকারকে ঘিরে ছিনতাই বা সন্দেহজনক ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, সংবাদকর্মী হিসেবে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে এবং নানা ধরনের প্রশ্ন করতে শুরু করেন। তার দাবি, শুরুতে তিনি পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি আচমকা তাকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেয় এবং সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পুরান ঢাকার একটি খাবারের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানা যায় সেটি পুরান ঢাকার সুপরিচিত নান্না বিরানি হাউজ। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি নিজের নাম জামিল বলে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করা হলেও সাংবাদিকের মতে, পুরো ঘটনাটির পেছনে অন্য উদ্দেশ্য কাজ করছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক সংবাদকর্মীকেও হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়। ওই সংবাদকর্মী একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন, মোরেলগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। তার মতে, পূর্বের কিছু ব্যক্তিগত বিরোধ বা দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে উদ্দেশ্য করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোনো সংবাদকর্মী যদি মাঠে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হয়রানি বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। একজন জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী বলেন, সাংবাদিকরা বিভিন্ন ঘটনার তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠে কাজ করেন। সেখানে তাদের পরিচয় জানার পরও যদি কেউ অযথা হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পুরান ঢাকার ব্যস্ত এলাকাগুলোতে প্রায়ই নানা ধরনের ঘটনা ঘটে এবং কখনো কখনো ভিড় বা উত্তেজনার কারণে ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবে এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এদিকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউকে জোরপূর্বক আটকে রাখা, মারধরের চেষ্টা করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী চাইলে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন। বর্তমানে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে এলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

আপনার মতামত লিখুন