আগে কথা বলতে পারতেন। শরীরে ছিল বল। পরের বাড়িতে কাজ করে রোগাক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে কোনো মতে জীবন চলছিল। খেয়ে না খেয়ে পার করছিলেন দিন।
কিন্তু হঠাৎ গত প্রায় তিন বছর আগে স্বামী মারা গেলে আকাশ ভেঙে পড়ে শেফালি বর্মনের (৬০) মাথায়। কয়েকদিন যেতে না যেতেই তিনিও শয্যাসায়ী হয়ে যান। এক অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে বাক শক্তি হারিয়ে ফেলেন। কেউ তার খবর না নেওয়ায় এখন তিনি বেকায়দায়।
আগে চেয়ে খেতে পারলেও এখন তা পারছেন না। নেই কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
ওই শেফালি বর্মন হচ্ছেন- নান্দাইল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের নাথপাড়া মহল্লার মৃত অনিল চন্দ্র বর্মনের স্ত্রী। নিজের এক খণ্ড জমিতে উপজেলা পরিষদের করে দেওয়া একটি টিনের ঘরে কোনো মতে বসবাস করছেন।
প্রতিবেশী স্বাধন চন্দ্র বর্মন জানান, শেফালির নেই কোনো সন্তান। স্বামী অনিল চন্দ্র বর্মন মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। বছর তিনেক আগে তিনি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর স্ত্রী শেফালি বর্মন বেকায় পড়ে নিঃস্ব হয়ে যান। আয়-রোজগারের কোনো পথ না থাকায় এক বেলা খেলে আরেক বেলা খেতে পারছিলেন না।
এ অবস্থায় অভাবের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে তিনি।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল দুজনের, ট্রাফিক বক্সে আগুন
প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বাকশক্তি হারান। এরপর থেকে শয্যাসায়ী হয়ে পড়েন। সমাজের কোনো প্রভাবশালী বা জনপ্রতিনিধি এমনকি সরকারের কেউ কোনো ধরনের খোঁজ-খবর নেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার একজন বাসিন্দা হলেও তার নেই না কোনো ধরনের ভাতা। এমনকি সরকারের দেওয়া সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন বঞ্চিত। এমন এক অবস্থায় শেফালি এখন নিঃস্ব।
আপনার মতামত লিখুন