কোরবানির মাংস খাওয়ার সময় গলায় হাড় বিঁধলে করণীয় ও সতর্কতা
ঈদুল আজহার দিনে গরু বা খাসির মাংসের নানা পদে ভরে ওঠে খাবারের টেবিল। পরিবার, অতিথি ও আড্ডার ভিড়ে অনেক সময় দ্রুত খাওয়ার কারণে ছোট একটি হাড় গলায় আটকে গিয়ে তৈরি করতে পারে বড় ধরনের ঝুঁকি।চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নেন, যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই গলায় হাড় বিঁধলে সঠিক করণীয় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংস ঠিকভাবে না চিবিয়ে খাওয়া, তাড়াহুড়া করা, কিংবা কথা বলতে বলতে খাওয়ার কারণে হাড় গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।আরও পড়ুন, খালি পেটে কাঁচা হলুদ-মধু, শরীর ও ত্বকের জন্য উপকারীগলায় হাড় আটকে গেলে প্রথমে হালকা কাশি দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। অনেক সময় এতে ছোট হাড় নিজে থেকেই সরে যেতে পারে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে পানি পান করাও সহায়ক হতে পারে, তবে জোর করে কিছু গিলতে চেষ্টা করা উচিত নয়। কিছু ক্ষেত্রে নরম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে হাড় নিচে নেমে যেতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি হাড় ধারালো হয়।আরও পড়ুন, ভাত ঝরঝরে না হওয়ার পেছনে এই সাধারণ ভুলগুলো দায়ীচিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, গলায় আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। এতে গলার ভেতরে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে বা হাড় আরও গভীরে চলে যেতে পারে। যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কথা বলতে সমস্যা হয়, লালা গিলতে না পারেন, বুকে ব্যথা বা দম বন্ধ লাগার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিরাপদভাবে হাড় বের করে থাকেন।আরও পড়ুন, মস্তিষ্ক রাখুন তরুণ ও তীক্ষ্ণ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫ সুপারফুডআর যদি শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা যেমন কাশি দিতে উৎসাহ দেওয়া বা প্রশিক্ষণ থাকলে হাইমলিখ ম্যানুভার প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঈদের আনন্দে খাবার খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একটু সচেতনতাই পারে ঈদের আনন্দকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে।