বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এনেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০টি বৈঠকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল।বুধবার রাজধানীতে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণেই দেশে সময়মতো টিকা পৌঁছায়নি বলে আরো পড়ুন , ঈদুল আজহা সামনে রেখে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন হাজারো মানুষ।ইউনিসেফ মনে করে।রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, চলমান সংকটের মধ্যেও একটি ইতিবাচক দিক হলো—১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু ইতোমধ্যে হামের টিকা পেয়েছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তিনি বলেন, টিকার মজুত নিশ্চিত রাখা জরুরি। সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা কিনতে পারে, তবে এতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। অন্যদিকে ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব।দেশে চলতি বছরে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই শিশু। মারা গেছেন অন্তত ৪৭৫ জন। গত আড়াই দশকে দেশে হামে এত বড় প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।এদিকে টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, প্রয়োজনে তদন্তে সহযোগিতা করবে এবং সবসময় সত্যের পক্ষেই থাকবে।