গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা (২১) নামে এক তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান মারুফকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক মাস পর গত ১৭ অক্টোবর রাত ১টা ২৫ মিনিটে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত স্নিগ্ধা গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন তালটিয়া মধ্যপাড়ায় একটি বাড়ির ছাদের চিলেকোঠার কক্ষে স্বামী মারুফের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। মারুফ প্রবাসে থাকাকালে তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে বিয়ে হয়। পরে দেশে ফিরে প্রায় দেড় মাস আগে কাজির মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তাঁরা। তবে মারুফের পরিবারের সদস্যরা স্নিগ্ধাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ হতো। এ সময় মারুফ তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে স্নিগ্ধা পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।আরও পড়ুন, হিজলায় হুফফাজুল ফাউন্ডেশনের কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিতমামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে স্নিগ্ধার সঙ্গে তাঁর ছোট বোন সিনথিয়ার সর্বশেষ মুঠোফোনে কথা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে তাঁদের বাসার অপর ভাড়াটিয়া শাহিন (২৬) স্নিগ্ধার বাবার বাড়িতে গিয়ে জানান, ভাড়া বাসার কক্ষের ভেতরে স্নিগ্ধাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।খবর পেয়ে স্নিগ্ধার বাবা আফসার মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্লোরে তোষকের ওপর মেয়ের মরদেহ শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মারুফ ওই দিন সকাল ১০টার দিকে নিজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান।এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় মারুফ অজ্ঞাতনামা অন্যদের সহায়তায় বালিশচাপা দিয়ে স্নিগ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আফসার মিয়া বাদী হয়ে পূবাইল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।মামলার পর থেকে মারুফ পলাতক ছিলেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর রাতে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে তাঁকে পূবাইল থানায় আনা হয়।পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।