দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে সৌরবিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা

জাতীয় গ্রিডের আওতার বাইরে থাকা খাগড়াছড়ির দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ছাদভিত্তিক ও অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ও টেকসই সমাধান হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।রোববার (৩০ আগস্ট) খাগড়াছড়িতে ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুফল: জনগণের জ্ঞান, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।বক্তারা বলেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ঘন জঙ্গল, বিচ্ছিন্ন বসতি ও জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণে সময় ও ব্যয় বেশি হয়। এসব এলাকায় সৌরবিদ্যুতের স্থানীয় ব্যবস্থা দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও দুর্গম বসতিতে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আরও  পড়ুন, গাজীপুর টঙ্গীতে পুলিশ পরিচয়ে ভুয়া পুলিশ গ্রেফতারসভায় জানানো হয়, দেশে প্রায় ৪ কোটি ২ লাখ পরিবারের ৪১ শতাংশ বাসস্থানে অন্তত ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এতে প্রায় ১৬ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদ থেকেও ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে জানানো হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন এফইডি খাগড়াছড়ির সদস্য ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রিয় কুমার চাকমা। প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রশাসক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রুমানা আক্তার।সভায় পেরাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা, ভাইবোনছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুজন চাকমা, প্রধান শিক্ষক অংপ্রু মারমা, সাংবাদিক আবু তাহের মাহমুদ ও নারী অধিকারকর্মী নমিতা চাকমাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।আলোচনায় সহজ অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়।

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে সৌরবিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা