ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ভিডিও প্রমাণ থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে নিষিদ্ধ আ.লীগ
জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিলে ও সমাবেশে বর্বরোচিত হামলার সুনির্দিষ্ট ভিডিও প্রমাণ ও ছবি থাকার পরও মূল অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের নিরব ও রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী , স্থানীয় সচেতন মহল ও পতিত সরকারের হাতে নির্যাতিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও কর্মসূচি চলাকালে মাদারগঞ্জ পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। হামলায় অংশ নেওয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ও দপ্তরে আওয়ামী লীগপন্থী চাকরিজীবীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ক্লিপ ও স্থিরচিত্রে হামলাকারীদের মুখ ও কর্মকাণ্ড স্পষ্ট দেখা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি ।আরও পড়ুন, ঈশ্বরদীতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে প্রাণ আরএফএল শ্রমিকদের বিক্ষোভ, তীব্র যানজট।ঘটনার ২বছর অতিবাহিত হলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও ভিডিওতে চিহ্নিত হামলাকারীরা দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বা প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন। সাধারণ ছাত্র-জনতা ও বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার মৌখিক ও লিখিত তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কালক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।কতিপয় বিচ্ছিন্ন বা লোক দেখানো অভিযান ছাড়া প্রভাবশালী আসামিরা কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ কেন নমনীয় নীতি অবলম্বন করছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অবিলম্বে ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত কর্মীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাদারগঞ্জ উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা।এ বিষয়ে জানতে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।সামনে ৫ আগস্ট উপলক্ষে এ অভিযানের কিছুটা নমুনা দেখা যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। তবে এ অভিযান কতদিন অব্যহত থাকবে বা কার্যকর হবে এ নিয়ে সংসয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী অনেকেই।