সাবরেজিস্টার অফিসে রাজস্ব ফাঁকি ভূয়া খাজনার রশিদ দিয়ে হয় রেজিস্ট্রি
সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর ও ধর্মপাশা দুইটি উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাদশাগঞ্জে একটিমাত্র সাবরেজিস্ট্রি অফিস। সপ্তাহে দুইদিন মঙ্গলবার ও বুধবার দলিল রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলে। এরিমধ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির ধুমড়া ঝালের আখড়ায় পরিনতি হয়েছে অফিসটি। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, ভূয়া খাজনার রশিদ দিয়ে হয় রেজিস্ট্রি। ভুয়া রশিদ এর তথ্য মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, বাংলাদেশ ফরম নং ১০৭৭,(পরিশিষ্ট ৩০)মৌজা ও জে এল নং সাতুর পশ্চিম ১১৭,২ নং রেজিস্ট্রার অনুযায়ী হোল্ডিং নং ১৩১। তাছাড়াও সাবরেজিস্টার নিজের আত্মীয় স্বজনদের খাজনা রশিদ ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রি করেন তিনি তাছাড়া এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এখনো বহাল তবিয়তে থেকে S R পলাশ তালুকদার আধিপত্য ধরে রেখেছেন। জানা যায়, S R পলাশ তালুকদার পাশ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার সীমানা ঘেঁষা অফিস থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরে উনার বাড়ি থাকার কারণে, তিনি সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তার করেছেন। এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতি অনায়সে কায়েম করছেন। এই সাবরেজিস্ট্রি ভবনে তার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকার কারণে, আইনের মারপেঁচে কর্মচারীগণও তার কাছে হয়রানির শিকার হন।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দলিলের নকল উঠাতে ২০০০ টাকা দিতে হয়। দানপত্র হেবা দলিল সরকারের ব্যাট না নেওয়ার কারণে, সরাসরি সাবরেজিস্টার নেন টাকা। সাবদলিলের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী সনদ দিয়ে রেজিস্ট্রি করলে দিতে হয় ২ হাজার টাকা। এস এ রেকর্ডের খাজনা পরিশোধ ছাড়া রেজিস্ট্রি, শ্রেনীকরণ ছাড়াই, উৎসকর ব্যাট প্রতি শতাংশ সমান হাড়ে ৫০০ টাকা দিতে হয়। এছাড়াও কয়েকজন দালাল সিন্ডিকেটের ইশারায় অফিসের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তারা বলেন, বেশ কয়েকজন দালাল সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অধিকাংশই দলিল লেখক।আরও পড়ুন, পাঁচবিবিতে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, উদ্ধার মরদেহতারা দাতা গ্রহীতাকে ভূমি আইনের জটিলতার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেন গ্রহকদের থেকে,এবং খাজনা পরিশোধ এবং দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন সহ চুক্তি করেন। খতিয়ান মালিক জমি বিক্রিতার কাছে থেকে খাজনা বাবদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ২০ হাজার টাকার খাজনা পরিশোধের রশিদ ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করেন। ফলে ভুক্তভোগীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব হরিলুট করছে ঐ দালালী সিন্ডিকেট। সরকারের ভূমি নীতিমালায় ২৫ বিগা পর্যন্ত মুক্ত রশিদ পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, সিন্ডিকেট চক্রটি দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন আইনের ধুমড়া ঝালের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।অফিস সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত সাবরেজিস্টার এর সাথে সমন্বয় ছাড়া কোন দলিল তিনি গ্রহন করেন না।এছাড়াও প্রতি দলিলে সাড়ে ৩ হাজার টাকা হাদিয়া দিতে হয় এক কর্মকতাকে।এ-সব অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিকার হওয়া জরুরি বলে মনে করেন এলাকার ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘ কয়েক বছর ওয়েবসাইট থাকলেও এখন পর্যন্ত আপডেট কোন তথ্য ওয়েবসাইটে নেই। যেটি তথ্য স্বনির্ভরতায় প্রভাব ফেলছে। দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে, সাব রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার উত্তেজিত হয়ে বলেন, সকল অভিযোগ মিথ্যা। আপনি নিউজ করেন সমস্যা নাই, ভূয়া খাজনার রশিদ যাচাই-বাছাই করার মতো আমার কাছে যন্ত্রপাতি নাই। তাছাড়া দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়গুলো ধর্মপাশা উপজেলা সাংবাদিকরা দেখবে।এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সাবরেজিস্ট্রার বলেন,নীতিমালার অন্তর্গত হয়ে কাজ করতে হবে। বিষয়টা আমি জানলাম। খতিয়ে দেখে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ভূমি নীতিমালা বহির্ভূত অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখবো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।