গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে দৈনিক ইনকিলাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাদমা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের পেছনে একটি কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘তিনটি গ্রুপের ৩৪টি গার্মেন্টস কারখানায় রয়েছে আ.লীগের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের প্রতিষ্ঠানও-শ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধনদাতা ইন্টারস্টপ-মন্ডল-সাদমা গ্রুপ’। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্টারস্টপ, মন্ডল ও সাদমা গ্রুপের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, উসকানি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগ করা হয়। তবে সাদমা গ্রুপের প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্রুপটির পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সাদমা গ্রুপ একটি অরাজনৈতিক ও দায়িত্বশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের অধীনে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি সচেষ্ট রয়েছে। আরও পড়ুন, রায়পুরে ককটেল ফাটিয়ে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনকে ছুরিকাঘাত, আটক ১কোনো ধরনের রাজনৈতিক অসদুদ্দেশ্য, অস্থিতিশীলতা কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, একটি কুচক্রী মহল ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সরবরাহ করেছে বলে তারা মনে করছেন। প্রতিষ্ঠানটি সব সময় প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে বলে জানিয়েছে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেছে সাদমা গ্রুপ। তাদের ভাষ্য, উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিবাদপত্রে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত না থাকলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্বার্থ রক্ষায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাদমা গ্রুপের আওতাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও মালিকানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তুলে ধরে শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ করা হলেও প্রতিবাদপত্রে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা, তথ্যের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাইয়ের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।