রাজধানীর উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, মাদক কারবার ও সরকারি-বেসরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। পুলিশের তালিকায় এ এলাকায় ৩০টির বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরার আলোচিত একটি গ্যাংয়ের নাম ‘দে লাড়া’, যার নেতৃত্বে সাকিবুল হাসান সানি ওরফে পিচ্চি সানি রয়েছেন বলে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, উত্তরার বিভিন্ন এলাকা থেকে উত্তরখান, দক্ষিণখান হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত এ গ্রুপের প্রভাব বিস্তৃত।গত ৯ অক্টোবর উত্তরখান এলাকায় কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাদক কারবার, ছিনতাই এবং জায়গা দখল নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসে। তাদের দাবি, উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন রেলপথের আশপাশে গাঁজা, ইয়াবা, আইস ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির কার্যক্রম চলে। এসব কারবারে গ্যাং সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।আরও পড়ুন, ঢাকার গণপরিবহনে নৈরাজ্যওই কিশোরদের আরও দাবি, গ্রুপটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাংয়ের সদস্যদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কথাও তারা জানিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সানি দ্রুত মুক্তি পেয়েছিলেন এবং এ ঘটনায় অর্থ লেনদেন হয়েছিল—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। তবে ঘুষ লেনদেনের এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের পেছনে মাদক, রাজনৈতিক প্রভাব, অপরাধের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা এবং খেলার মাঠের সংকট ভূমিকা রাখছে। ফাঁকা জায়গা দখল করে দোকান, মার্কেট ও বস্তিঘর নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।এ পরিস্থিতিতে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ, মাদকবিরোধী অভিযান, দখলমুক্ত মাঠ এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।