দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ভারতের বিদ্যুৎ করিডর হতে শর্ত দিচ্ছে ঢাকা, চার দাবিতে অনড় বাংলাদেশ

ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের করিডর হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে চারটি শর্ত সামনে আনছে ঢাকা।সরকারি সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত এই গ্রিড লাইন নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।প্রথম শর্ত হিসেবে ভারতকে স্পষ্ট করতে হবে—ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এই সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে কি না। কারণ, ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ নির্মাণ হলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।দ্বিতীয় শর্তে নেপাল ও ভুটান থেকে কম দামে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশকে পৃথক গ্রিড লাইন নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।তৃতীয়ত, প্রস্তাবিত সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে চায় ঢাকা।আরও  পড়ুন, ৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীআর চতুর্থ শর্ত হিসেবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে এই লাইন নির্মাণের আগে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করার দাবি জানানো হচ্ছে।গত ৬ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।তবে বাংলাদেশ শুধু ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পথ হতে চায় না। বরং নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি যৌথ গ্রিড ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা করতে চায় ঢাকা।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ তৈরি হলে তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতের বিদ্যুৎ করিডর হতে শর্ত দিচ্ছে ঢাকা, চার দাবিতে অনড় বাংলাদেশ