সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়।আরও পড়ুন, এপ্রিলে সড়ক-রেল-নৌপথে ৫৮৬ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৫৬৩ জনেরসাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও মহামারি ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এ প্রক্রিয়া কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুপারিশ প্রণয়নের কাজ করছে।আরও পড়ুন, পোস্টাল ব্যালটের কিউআর কোড রিডার ফেরত দিতে বলল নির্বাচন কমিশনসূত্র আরও জানায়, সম্ভাব্য খসড়া প্রস্তাবে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা রয়েছে। ২০ নম্বর গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী নবম গ্রেডের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং নীতিগত পর্যায়ের প্রাথমিক প্রস্তাব।আরও পড়ুন, পদ্মা নদীতে ব্যারেজ প্রকল্প: ৩৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাসরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বর্তমানে প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের পরেই। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তা সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তিরও হতে পারে।