দেশে ইসবগুল চাষ সম্ভব, বাধা শুধু প্রক্রিয়াজাতকরণে
পেটের সমস্যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য—বিভিন্ন সমস্যায় বহুল ব্যবহৃত ইসবগুলের ভুসি। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই পরিচিত এই পণ্য। অথচ প্রতিদিন যে ইসবগুলের ভুসি গ্লাসে গুলিয়ে খাচ্ছেন, তার প্রায় পুরোটাই আসে বিদেশ থেকে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে ইসবগুল উৎপাদন না হওয়ায় পুরো বাজারই আমদানিনির্ভর।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টন ইসবগুলের ভুসি আমদানি হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ডলার বা ১০৮ কোটি টাকা। আর পুরো আমদানিই হয়েছে ভারত থেকে।তবে বাংলাদেশে ইসবগুল চাষের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে ইসবগুল চাষ নিয়ে গবেষণা করছেন। বগুড়া, গাজীপুর, লালমনিরহাট ও ফরিদপুরে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতাও মিলেছে।গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত লবণাক্ত ও জলাবদ্ধ জমি বাদে দেশের অধিকাংশ উঁচু জমিতে রবি মৌসুমে ইসবগুল চাষ করা সম্ভব। মাত্র ১১০ থেকে ১২০ দিনের এই ফসল নভেম্বর মাসে বপন করে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের শুরুতে সংগ্রহ করা যায়।এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচে ইসবগুল চাষ করে প্রায় ১০০ কেজি ফলন পাওয়া সম্ভব। আড়ুও পড়ুন,ভরিতে সোনা কমল ২ হাজার ২১৬ টাকাবীজ বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং ভুসি তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে বিঘাপ্রতি প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।কিন্তু এখানেই বড় বাধা। ইসবগুলের বীজ থেকে ভুসি তৈরির উপযোগী প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র বা প্রযুক্তি দেশে নেই। ফলে পরীক্ষামূলকভাবে গাছ ও বীজ উৎপাদন সম্ভব হলেও বাণিজ্যিকভাবে ভুসি উৎপাদন করা যাচ্ছে না।অন্যদিকে, দেশে ইসবগুলের ভুসির খুচরা দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি ইসবগুলের ভুসি প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত আট বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ।ফলে দেশে ইসবগুল চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন একটি লাভজনক ফসলের বাজার।এখন প্রয়োজন ইসবগুলের বীজ থেকে ভুসি উৎপাদনের উপযোগী প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা—যাতে জনপ্রিয় এই পণ্যটি আর পুরোপুরি আমদানিনির্ভর না থাকে।