দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

পদ্মা সেতুর পর যাত্রীশূন্য বরিশালের লঞ্চ, বিলুপ্তির পথে নৌশিল্প

একসময় সন্ধ্যা নামলেই কীর্তনখোলা নদীর তীরে জমে উঠত ব্যস্ততা। বিলাসবহুল লঞ্চের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠত বরিশাল নদীবন্দর। যাত্রীদের পদচারণায় মুখর থাকত টার্মিনাল। ঢাকা-বরিশাল নৌপথ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।কিন্তু পদ্মা সেতু চালুর চার বছরেই বদলে গেছে সেই চিত্র। যাত্রী সংকটে একের পর এক লঞ্চ বসে থাকছে। কেউ বিক্রি করছেন, আবার কোনোটি তুলে দেওয়া হচ্ছে ভাঙারির কাছে। যারা এখনো লঞ্চ চালু রেখেছেন, তারাও বলছেন, লোকসানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৪ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত যাত্রীবাহী প্যাডেল স্টিমার চলাচল শুরু হয়। পরে বেসরকারি মালিকানায় এ পথে যুক্ত হয় লঞ্চ। সময়ের সঙ্গে কাঠের ছোট লঞ্চ থেকে তৈরি হয় তিন-চারতলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল স্টিলবডির লঞ্চ।একসময় ঈদ মৌসুমে বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই ডজন লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেত। অথচ চলতি বছরের ঈদে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করেছে মাত্র ৯টি লঞ্চ। ২০২৫ সালে প্রতিদিন চলেছে মাত্র দুটি লঞ্চ। বর্তমানে চলছে তিনটি।আরও  পড়ুন, গ্লোবাল কনজ্যুমার অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফোরামের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনএর প্রধান কারণ সময় ও খরচ। লঞ্চে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। বিপরীতে পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে এর অর্ধেকেরও কম সময়ে রাজধানীতে পৌঁছানো যায়। ফলে দ্রুত ও তুলনামূলক সুবিধাজনক যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা বাসমুখী হচ্ছেন।লঞ্চ মালিকদের হিসাবে, একটি বিলাসবহুল লঞ্চের বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রাউন্ড ট্রিপে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। অধিকাংশ ট্রিপে লঞ্চপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।যাত্রী ফেরাতে ডেক, কেবিন, ভিআইপি ও বিজনেস ক্লাসের ভাড়া কমিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ডেক ভাড়া ৪০৭ টাকা হলেও যাত্রী সংকটে অনেক সময় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বা তারও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে।নৌপথের সংকটের বড় উদাহরণ এমভি সুরভী-৭। প্রায় দুই যুগের পুরোনো এই বিলাসবহুল লঞ্চটি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হলেও পরে শিপইয়ার্ডে তুলে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পদ্মা সেতু চালুর পর গত চার বছরে সুরভী-৭সহ ডজনখানেক বিলাসবহুল লঞ্চ বিক্রি হয়েছে।

পদ্মা সেতুর পর যাত্রীশূন্য বরিশালের লঞ্চ, বিলুপ্তির পথে নৌশিল্প