দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

জনবান্ধব পুলিশ গড়তে শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতায় বিশেষ গুরুত্ব চট্টগ্রামের এসপির

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি ও পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তাঁর মতে, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারত্বের উৎকর্ষ অর্জনের জন্য পুলিশ সদস্যদের উপযোগী কর্মপরিবেশ, সুস্বাস্থ্য এবং ইতিবাচক মনোবল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিভিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ, কর্মক্ষেত্রের বিদ্যমান সমস্যা, দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পুলিশ সুপার। পুলিশ লাইন্সের দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত জায়গাগুলো সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবহারের আওতায় আনার নির্দেশনা দেন তিনি। এসব স্থানে পরিকল্পিতভাবে মৌসুমি শাকসবজি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলমূল উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে অব্যবহৃত জমির উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণ এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। দায়িত্ব পালনের চাপ ও ব্যস্ততার মধ্যেও পুলিশ সদস্যদের সুস্থ ও কর্মোদ্যমী রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন মো. মাসুদ আলম। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক সতেজতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করতে নিয়মিত খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি থানায় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কল্যাণ সভায় দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করা হয়।আরও পড়ুন, চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে কালেক্টরেট মাঠে ক্রীড়া উৎসব, নতুন অধ্যক্ষের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী আয়োজনবিশেষ করে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের রহস্য উন্মোচন এবং অপরাধী ও দীর্ঘদিন পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার এই আয়োজন পেশাগত দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও অভিযোগ পুলিশ সুপারের সামনে তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের প্রতিটি পর্যায়ে পেশাগত শৃঙ্খলা, আচরণগত সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান মেনে চলতে এবং পুলিশ বাহিনীর পেশাগত ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাসিক কল্যাণ সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন), ডিআইও-১, রিজার্ভ ইন্সপেক্টর, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। সভায় উঠে আসা নির্দেশনাগুলোতে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহার এবং পেশাগত জবাবদিহির বিষয়টি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত কল্যাণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার এসব উদ্যোগ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশকে আরও সুশৃঙ্খল, কর্মক্ষম এবং জনসেবামুখী করে তোলার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জনবান্ধব পুলিশ গড়তে শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতায় বিশেষ গুরুত্ব চট্টগ্রামের এসপির