যাত্রী নিরাপত্তায় নতুন পদক্ষেপ বসছে বিস্ফোরক শনাক্তকারী মেশিন
বাংলাদেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে অত্যাধুনিক ‘এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন (ইটিডি)’ মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫টি অত্যাধুনিক ইটিডি মেশিন সংগ্রহ ও স্থাপন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের আন্তর্জাতিক ও গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সব বিমানবন্দরে এসব যন্ত্র বসানো হবে। লাগেজ না খুলেই ইটিডি মেশিন যে কোনো ধরনের বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত করবে।বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা এবং যাত্রী ও ফ্লাইট অপারেশনের চাপ বৃদ্ধির কারণে বিমানবন্দরগুলো আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ইটিডি মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিস্ফোরক ব্যবহারের কৌশল দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অতি অল্প পরিমাণ বিস্ফোরক মানুষের শরীর, পোশাক, লাগেজ কিংবা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের গায়ে লেগে থাকতে পারে, যা সাধারণ এক্স-রে স্ক্যানার বা মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, অতি সামান্য বিস্ফোরক ব্যবহার করেই বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইটিডি অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।