চট্টগ্রাম জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, টার্গেট কিলিং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। বিশেষ করে রাউজান ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।আরও পড়ুন, সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকরোববার (১৭ মে) সকালে নগরের দুই নম্বর গেইটে অবস্থিত চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনার আগে পরিস্থিতির গভীরতা ও পেছনের বাস্তবতা বুঝে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভুল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা টার্গেট কিলিংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে মাসুদ আলম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এলাকাটি সম্পর্কে নানা নেতিবাচক তথ্য ও গল্প শুনেছেন। অতীতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক যৌথ বাহিনীর অভিযান ও প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।আরও পড়ুন, গলাচিপায় ‘শেখ হাসিনার সালাম’ স্লোগান দিয়ে লিফলেট ছড়িয়ে উধাও ৪ যুবকতিনি স্পষ্টভাবে জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে আর ুরাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র” হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না। সেখানে স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই এলাকায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও পুলিশ একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও স্থায়ী উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই গুরুত্বপূর্ণ অভিযান বা ঘটনার তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা পুলিশ আরও সক্রিয় থাকবে। তিনি গণমাধ্যমকে জনগণের আস্থা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাসুদ আলম বলেন, কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করছে এবং চট্টগ্রাম সেই রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।আরও পড়ুন, সিলেটে ভাতের থালা হাতে হকারদের অভিনব বিক্ষোভআসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি। চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় আড়াইশ’ পশুর হাটকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গরুর হাট ও পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। এছাড়া কোরবানির পশু কেনাবেচায় বড় অঙ্কের অর্থ বহনকারী ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি জোরদারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।