সাভারে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ১২ শিক্ষার্থীকে ফেলে শিক্ষকসহ সবাই পলাতক
ঢাকার সাভারে দাওয়াতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়েখ ক্বারী মোহাম্মদ আনাস আলীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পরদিনই (২৮ জুলাই) অভিযুক্ত প্রিন্সিপালসহ মাদ্রাসার সকল শিক্ষক বাড়িওয়ালার সহায়তায় পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করেন। পরবর্তীতে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।উলাইল ভান্ডারী মোড় এলাকায় অবস্থিত বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলামের তিনতলা ভবনের তিনতলায় পরিচালনা করা হতো মাদ্রাসাটি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রিন্সিপাল আনাস আলী ছাড়া মাদ্রাসায় চারজন পুরুষ শিক্ষক, তিনজন নারী শিক্ষক এবং আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী ছিল।ঘটনার পরদিন শিক্ষকরা সবাই পালিয়ে যাওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলাম জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে।আরও পড়ুন, নতুন কুড়ি স্পোর্টস ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান অর্জনে সিরাজগঞ্জে আনন্দ র্যালিবাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, ওই মাদ্রাসায় নাকি কেবল একজন শিক্ষকই (প্রিন্সিপাল আনাস আলী) কর্মরত ছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের তথ্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত।এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় এক গার্মেন্টস কর্মী অভিভাবক দ্রুত মাদ্রাসায় ছুটে আসেন। সেখানে এসে তিনি দেখেন তার ৬ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল মাহিন মাদ্রাসায় নেই। আতঙ্কিত হয়ে তিনি পলাতক প্রিন্সিপালকে কল করলে প্রিন্সিপাল জানান শিশুটি বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু শিশুটি বাড়ি ফেরেনি এবং এর পরপরই প্রিন্সিপালের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে শিশুটি নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, রেখে যাওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষক পালিয়ে যাওয়া এবং শিশু নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।