দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ঢাকার উন্মুক্ত স্থান রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ চায় আইপিডি

রাজধানীর উন্মুক্ত মাঠ, পার্ক ও গণপরিসর ধীরে ধীরে প্রভাবশালী ক্লাব ও গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।সংগঠনটির দাবি, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পরিচালনার দায়িত্ব গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার সংকুচিত হচ্ছে এবং মাঠ-পার্কের বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ছে।আরও পড়ুন, ‘দেড় মাসেও বিচার নেই’, রামিসার বাড়িতে নিশাতের বাবার কান্নাশুক্রবার (২২ মে) অনলাইনে আয়োজিত আইপিডির এক পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল— “গুলশান সেন্ট্রাল পার্ককে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের নিকট সমর্পণ: মাঠ-পার্কের দখলদারিত্বের নতুন বাস্তবতা।” অনুষ্ঠানে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকার যখন খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলছে, তখন আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে মাঠের দায়িত্ব দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল। এতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও বিনোদনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগেও রাজউক গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অথচ এখন সেই ক্লাবকেই ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।আইপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের বড় একটি অংশ এখন কার্যত ক্লাবনির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত হচ্ছে এবং ফুড কোর্ট, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও ক্লাব অবকাঠামোর কারণে সবুজায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আরও পড়ুন, রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় উত্তাল মিরপুর, দ্রুত বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধঅনুষ্ঠানে পরিবেশবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ক্লাবের কাছে হস্তান্তরের ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিত। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক ও আইপিডির রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মাঠ-পার্কের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই নতুন মাঠ-পার্ক তৈরি এবং বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন।আরও পড়ুন ঈদ সামনে, জমে উঠছে রাজধানীর বড় পশুর হাটপরিবেশকর্মীরা বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীরা মাঠ-পার্ক দখল করে রাখছে, যা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। আইপিডি প্রস্তাব দিয়েছে, মাঠ-পার্ক ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে যৌথ কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সব মাঠ-পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা, বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ করা এবং দখলদারিত্বের পূর্ণ তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকার উন্মুক্ত স্থান রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ চায় আইপিডি