দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রতিযোগিতা জলবায়ুর জন্য বড় বিপদ

ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রতিযোগিতা পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রকেট উৎক্ষেপণের সময় নির্গত কালো ধোঁয়া ও ঝুলকালি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ভয়াবহ দূষণ সৃষ্টি করছে।আরও পড়ুন, স্কটল্যান্ডে ৫ হাজার বছরের পুরোনো দ্বীপের সন্ধানসাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সসহ বিভিন্ন কোম্পানি ইন্টারনেট সেবা দিতে হাজার হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে ‘মেগাকনস্টেলেশন’ নামে পরিচিত বিশাল স্যাটেলাইট বহর তৈরির প্রতিযোগিতা জোরদার হয়েছে। এর আগে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন, অতিরিক্ত স্যাটেলাইট মহাকাশে জটলা তৈরি করছে এবং সেগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে মহাকাশ মানুষের ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তবে এবার নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকদের মতে, স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের সময় বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বিপুল পরিমাণ ‘ব্ল্যাক কার্বন’ বা ঝুলকালি নির্গত হয়। মাটিতে তৈরি হওয়া কালির তুলনায় এই কালি অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশের ওপর প্রায় ৫৪০ গুণ বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।আরও পড়ুন, নিজের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেই ভেঙে যেতে পারে মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসবিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি দশকের শেষ দিকে মহাকাশ খাতের মোট পরিবেশ দূষণের প্রায় ৪২ শতাংশই আসতে পারে এসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ থেকে। যদিও এ ঝুলকালির একটি দিক সূর্যের আলো কিছুটা বাধাগ্রস্ত করে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীরা এটিকে অনিয়ন্ত্রিত ‘জিওইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রভাব হিসেবে দেখছেন, যার নেতিবাচক পরিণতি আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।আরও পড়ুন, মে মাসের রাতের আকাশে উল্কাবৃষ্টি ও গ্রহের মেলাগবেষণা প্রকল্পের প্রধান এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক ইলোইস মারাইস বলেছেন, এখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পরে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ‘রেডিয়েটিভ ফোর্সিং অ্যান্ড ওজোন ডিপলেশন অফ আ ডেকেড অফ স্যাটেলাইট মেগাকনস্টেলেশন মিশনস’ শিরোনামের গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল আর্থ ফিউচার্সে প্রকাশিত হয়েছে।

স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রতিযোগিতা জলবায়ুর জন্য বড় বিপদ