গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ফরেস্ট এলাকায় ‘উর্মি ফ্যাশন ভান্ডার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি ও বন বিভাগের সম্পত্তির অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ, মালিকানা যাচাই এবং অনুমোদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌচাক ফরেস্ট এলাকার সরকারি মালিকানাধীন জমি এবং বন বিভাগের সম্পত্তির একটি অংশে প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জায়গাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।তবে অভিযোগটি কতটা সত্য, ব্যবহৃত জমির প্রকৃত মালিকানা কার এবং প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ অনুমতি বা ইজারার ভিত্তিতে ওই জায়গা ব্যবহার করছে কি না—এসব বিষয় সরকারি নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ নম্বর, মৌজা ম্যাপ এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করলেই জমিটির প্রকৃত অবস্থান ও মালিকানা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।আরও পড়ুন,কোনো অন্যায়কে ছাড়দেবেনা সরকার - প্রতিমন্ত্রীটুকুসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি, খাস জমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির রেকর্ড নিয়ে জটিলতার বিষয় রয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বন বিভাগের জমি উদ্ধারে অভিযানও হয়েছে। ফলে মৌচাক ফরেস্ট এলাকার অভিযোগটিও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি জমি বা বন বিভাগের জায়গা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করে থাকলে তা বন্ধ করা এবং সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে সীমানা নির্ধারণ করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।এদিকে মৌচাক প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ, ভূমি প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা, দখল ও ব্যবহারের বৈধতা নিশ্চিত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।তবে উর্মি ফ্যাশন ভান্ডারের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু স্থানীয় অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড, অনুমোদনপত্র এবং সরেজমিন পরিমাপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত ঘটনা যেমন স্পষ্ট হবে, তেমনি সরকারি সম্পত্তি নিয়ে ভবিষ্যতের বিরোধও এড়ানো সম্ভব হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।