কক্সবাজার ব্লু গার্ডের উদ্যোগে সমুদ্র পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
সামুদ্রিক পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং উপকূলীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার সদরের উত্তর রাস্তারপাড়া কক্সবাজার সদর, ব্লু গার্ড দল জুলাই মাসে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা, সামুদ্রিক বর্জ্য পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দলের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে স্থানীয় জনগণের মাঝে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।জুলাই মাসে ৫ সদস্যের উত্তর রাস্তারপাড়া ব্লু গার্ড দল দুই দিনব্যাপী সমুদ্র সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন অংশ থেকে মোট ৭০ কেজি সামুদ্রিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন অংশ থেকে প্লাস্টিক, পলিথিন, পানীয়ের বোতল, পরিত্যক্ত ও ছেঁড়া মাছ ধরার জাল, রাবারজাত সামগ্রী, দড়ি এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে পরবর্তীতে পুনর্ব্যবহার কিংবা পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা যায়।পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি দলের সদস্যরা সৈকতে সংগৃহীত সামুদ্রিক বর্জ্যের ধরন, পরিমাণ এবং ওজন নির্ধারণ করে একটি নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহ ফরমে লিপিবদ্ধ করেন। প্লাস্টিক, পলিথিন, ছেঁড়া জাল, রাবার এবং অন্যান্য বর্জ্যের পৃথক তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় মেরিন লিটারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ, দূষণের মাত্রা নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, কিশোরগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির উল্টো জায়গায় সিল মারবেন : নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীএছাড়া জুলাই মাসে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল মডেল হাই স্কুলে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সমুদ্রে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার ক্ষতিকর প্রভাব, পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা এবং সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যথাস্থানে বর্জ্য ফেলা, পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলা এবং উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য উপস্থিত সকলকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।ব্লু গার্ড সদস্যরা জানান, সমুদ্র ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সামুদ্রিক বর্জ্য পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উপকূলকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই তারা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।উল্লেখ্য, ফিশারিজ লাইভলিহুড এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (FiLEP)-এর আওতায় গঠিত ব্লু গার্ড দলগুলো উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, মেরিন লিটার পর্যবেক্ষণ, সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে এবং মৎস্য অধিদপ্তর, কক্সবাজার-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।