ব্যাংক ঋণের বড় বোঝা ও দীর্ঘদিনের বন্ধ কার্যক্রমের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক মডেলে বেক্সিমকো গ্রুপের একটি কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের কাশিমপুরে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বন্ধ থাকা ১৬টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল ইউনিটের মধ্যে প্রথমে ‘প্রিফিক্স ফ্যাশনস লিমিটেড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে ব্রিটিশ ও চীনা দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মোট ২৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।প্রস্তাবিত বিনিয়োগে অর্থায়ন করবে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘চার্টার এইচসিপি লিমিটেড’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিং লিমিটেড’। পুরো উদ্যোগে অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জাপানি-বাংলাদেশি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘রিভাইভাল গ্লোবাল’।প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য লিজ বা চুক্তিতে যাবে। কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে অর্জিত অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এরপর ঋণের বিপরীতে লিয়েনধারী ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই অর্থ থেকে ঋণের কিস্তি কেটে নেবে। এতে ঋণ পরিশোধের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেক্সিমকো গ্রুপের সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না।আরও পড়ুন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদনএরপর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে কারখানাটি চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। অনুমোদন মিললে আগামী বছরের এপ্রিলেই প্রিফিক্স ফ্যাশনসে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। উৎপাদিত পোশাকের বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য তৈরি করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই হবে জ্যাকেট। উৎপাদন শুরুর পর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ কারখানা থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।প্রিফিক্স ফ্যাশনসের উদ্যোগ সফল হলে একই মডেলে পর্যায়ক্রমে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বাকি ১৫টি বন্ধ ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরি হারানো ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিকের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।বেক্সিমকো গ্রুপের কারখানাগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে সরকার এর আগে ৫২৬ কোটি টাকা সহায়তাও দিয়েছিল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।