মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক অগ্রগতি ধরে রাখা এবং নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় নীতি সুদহার (পলিসি রেট) ৯ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। (৩০ সেপ্টেম্বর) অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতি (কিউএমপিএস) প্রকাশ করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে দেশের সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমে এলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরির আশঙ্কা এখনো রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নতুন জাতীয় পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব খাতে উদীয়মান চাপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।আরও পড়ুন, পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী সূচক, বেড়েছে দুই বাজারের লেনদেনসম্প্রতি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পরিবহন, উৎপাদন, কৃষি, লজিস্টিকস ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব ধীরে ধীরে পণ্য ও সেবার দামে পড়তে পারে বলেও মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হার ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্নও মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগেভাগে মুদ্রানীতি শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হতে পারে। ফলে আপাতত নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।