দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

নির্বাচনী মাঠে বিএনপির বিদ্রোহীরা অর্ধশত আসনে প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এসব প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন। দলীয় টিকিট না পেয়ে অনেক সাবেক ও বর্তমান স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় ইউনিটগুলোতে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বৈধ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আজ প্রতীক বরাদ্দ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি দলকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার দলগুলোর প্রধানের কাছে পাঠানো ইসির চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে। একইসঙ্গে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ (পোস্টাল ব্যালট) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে ১২টা বাজিয়ে দিতো। এই পরিস্থিতিতে আপনারা (সাংবাদিকরা) পাশে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। সাংবাদিকরা না থাকলে আমরা এতদূর আসতে পারতাম না। আরো পড়ুন , ১৯৯১-এর নির্বাচন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিএনপির বিস্ময়কর জয়গতকাল মঙ্গলবার ছিল সারা দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। এইদিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র অসংখ্য প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন। ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে ২৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ৫০টির মতো সংসদীয় আসনে ৯১ জনের মতো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থিতা নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন। শেষদিনে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তবে জোটের আসন ভাগাভাগির চুক্তির আওতায় যেসব আসন মিত্র দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনের অন্তত ছয়টিতে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে আছেন। ২৯২টি আসনে এবার ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থিতা দেয় বিএনপি। জোটসঙ্গীরা আটটি আসনে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন।তবে বিএনপির তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ফলে এখনো পর্যন্ত ২৮৯টি আসনে ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার তথ্য পাওয়া গেছে। বহিষ্কৃত নেতা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব এখনো ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচন করছেন। ঐ আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। সেখানে জোটসঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রার্থী। ঢাকা-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইশহাক সরকার। ঝিনাইদ-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। ঐ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান।

নির্বাচনী মাঠে বিএনপির বিদ্রোহীরা অর্ধশত আসনে প্রার্থী