দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

জিয়াউল আহসানের মামলায় ১৫তম সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিচার শেষের পথে

সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মামলার ১৫তম প্রসিকিউশন সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। তার সাক্ষ্যের অবশিষ্ট অংশ আগামী রোববার উপস্থাপনের কথা রয়েছে।জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১০৪ জনকে জোরপূর্বক গুম ও হত্যার অভিযোগে এই মামলা চলছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে এর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসানের অধীনে পরিচালিত কথিত ‘গলফ’ অপারেশনসহ বিভিন্ন অভিযানে মানুষকে আটক, গুম ও হত্যার বিষয়ে তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের রায়েই নির্ধারিত হবে।বুধবার সাক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তদন্তের সময় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন এবং তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে জানান। তার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। এরপর যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।আরও  পড়ুন, নৌপথে যাত্রীভাড়া বাড়লএর আগে ১৩তম সাক্ষী অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাব্বির রহমান ওসমানী জেরায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে কথিত ‘গলফ অপারেশন’ এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ বরিশালের তৎকালীন র‍্যাব-৮ কার্যালয়ে কোনো সরকারি রেকর্ড ছাড়াই রাখা হয়েছিল।প্রসিকিউশন জানিয়েছে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তারা প্রত্যক্ষদর্শী, নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। প্রসিকিউশনের মতে, সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা পক্ষ এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছে, অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেনি।এদিকে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। এসবের মধ্যে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইলিয়াস আলীসহ কয়েকজনের গুমের অভিযোগ এবং লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।মামলার বর্তমান পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর প্রতিরক্ষা পক্ষের কার্যক্রম এবং যুক্তিতর্কের ওপরই পরবর্তী বিচারিক অগ্রগতি নির্ভর করবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

জিয়াউল আহসানের মামলায় ১৫তম সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিচার শেষের পথে