গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবগাতী এলাকায় দোলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘর্ষের পর প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দোলা পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসগুলোর বেপরোয়া চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দোলা পরিবহনের বাসকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন দুর্ঘটনার ঘটনা ও অভিযোগের কথা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত হলেও এসব অভিযোগের সামগ্রিক কোনো পরিসংখ্যান বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিবহন কোম্পানিকে দায়ী করার আগে প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ, চালকের ভূমিকা, গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থা, সড়কের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল যাচাই করা জরুরি। আজকের দুর্ঘটনাও সেই প্রশ্নকে সামনে এনেছে বাসটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ল? বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেটকারটির সঙ্গে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী? চালকের গতি কত ছিল? বাসটির ফিটনেস ও কাগজপত্র হালনাগাদ ছিল কি না?আরও পড়ুন, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে গোপালগঞ্জে ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের উদ্যোগসড়ক দুর্ঘটনার পর সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ও অসতর্ক চালনা, ওভারটেকিং, চালকের ক্লান্তি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, সড়কের অবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই কোনো দুর্ঘটনাকে শুধু চালকের ভুল কিংবা অন্য একটি গাড়ির দায় হিসেবে দেখলে প্রকৃত কারণ আড়ালে থেকে যেতে পারে। কাশিয়ানীর শিবগাতীর দুর্ঘটনাতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একটি বাসে উঠে একজন যাত্রী তার গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করেন। কিন্তু একই পরিবহনের কোনো বাস দুর্ঘটনায় পড়লে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে চালকের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যথাযথ কি না, গাড়ির ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না এবং নির্ধারিত গতিসীমা মানা হচ্ছে কি না। কাশিয়ানীর শিবগাতীর দুর্ঘটনা তাই কেবল একটি দিনের সড়ক দুর্ঘটনা নয়; এটি মহাসড়কে গণপরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।দোলা পরিবহনের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্ঘটনার যে অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আজকের দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পাশাপাশি মহাসড়কে চলাচলকারী সব গণপরিবহনের গতি, চালকের দক্ষতা, ফিটনেস ও নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। যাতে আর কোনো পরিবারকে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর শোক বহন করতে না হয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।