কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মরিয়ম আক্তার (৬) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে উপজেলার বানিয়াগ্রাম বাজার এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।নিহত মরিয়ম আক্তার মধ্যপাড়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। সে উপজেলার বানিয়াগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আনিস মিয়ার মেয়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শনিবার সকালে মরিয়ম বাড়ির পাশের এলাকায় ঘোরাফেরা শেষে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় কিশোরগঞ্জগামী দ্রুতগতির “অন্যন্যা সুপার” নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি।আরও পড়ুন , ঈদ বাজার মাতাতে প্রস্তুত কটিয়াদীর ‘মহারাজা’ ও ‘রাজাবাবু’ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত মরিয়মকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। শিশুটির স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। প্রতিবেশী, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বানিয়াগ্রাম বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। বিশেষ করে বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা দ্রুত স্পিডব্রেকার স্থাপন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।আরও পড়ুন , গাংনী সীমান্তে বিজিবির পৃথক তিন অভিযান কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১ যুবকএলাকাবাসী বলেন,“একটি ছোট্ট শিশুর জীবন এভাবে ঝরে পড়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বাজার এলাকায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”শিক্ষক ও অভিভাবকরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের আশপাশ ও ব্যস্ত সড়ক এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে, মরিয়মের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।একটি প্রাণবন্ত শিশুর অকাল প্রস্থান আবারও মনে করিয়ে দিল—সড়কে সামান্য অসচেতনতা কিংবা বেপরোয়া গতি কেড়ে নিতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন, হাসি ও ভবিষ্যৎ।