‘আর নয় বাল্যবিয়ে, এগিয়ে যাব স্বপ্ন নিয়ে, করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা, সরকার দেবে ৪০০ টাকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় কিশোরী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে কিশোরীদের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি সঞ্চয়ের বিপরীতে সরকারি প্রণোদনার চেক হস্তান্তর করা হয়।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলার সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘ এ সমাবেশের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোরীদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখা, স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা এবং ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ের ঝুঁকিও কমবে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইরেসপো প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো কিশোরীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি, শিক্ষা অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা। নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিশোরীরা ভবিষ্যতে শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাজে আর্থিক সহায়তার সুযোগ পাবে। আরও পড়ুন,কসবায় ১০ দিনব্যাপী সফটস্কিল প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণপাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা তাদের সঞ্চয়ে আরও উৎসাহিত করবে।অনুষ্ঠানে ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ছয় শিক্ষার্থীর জমাকৃত সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৮০০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা হিসেবে তাদের ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৯ টাকা দেওয়া হয়।এ ছাড়া দেবহাটা উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ কিশোরী বাল্যবিয়ে না করার শপথ নিয়ে প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ তহিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃদুল সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিআরডিবি সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক আফরুজ্জামান, দেবহাটা উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সন্দীপ মণ্ডল, শিক্ষার্থী তাহেরা ইসলাম*সহ অন্যরা।বক্তারা আরও বলেন, একটি কিশোরীর শিক্ষা বন্ধ হয়ে বাল্যবিয়ের শিকার হওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত সম্ভাবনাকেই সীমাবদ্ধ করে না, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কিশোরীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিকভাবে সচেতন করে গড়ে তোলা জরুরি।আয়োজকদের মতে, শিক্ষা, সচেতনতা ও সঞ্চয়—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে কিশোরীদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।